২ ঘণ্টার ঘুম ও কারোশি সংস্কৃতি বিতর্ক
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর ব্যক্তিগত অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তিনি দৈনিক মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমান এবং খুব বেশি হলে সময়টা চার ঘণ্টায় পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “জানি, এটি আমার ত্বকের জন্য ভালো নয়।”
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন তিনি কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ (Overwork) করাতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। গত সপ্তাহে সংসদ অধিবেশন প্রস্তুতির জন্য তিনি রাত ৩টায় অফিসে বৈঠক ডাকেন, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
জাপানে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মীদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি দেশটিতে ‘কারোশি’ (Karoshi) নামে একটি শব্দও প্রচলিত, যার অর্থ—অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যু।
কর্মঘণ্টা কমানোর প্রসঙ্গে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স বাতিল
বৈঠকে সানায়ে তাকাইচিকে জাপানের কুখ্যাত দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমানোর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের ঘুমের সময়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকার অতিরিক্ত কাজের সর্বোচ্চ সীমা (Maximum Limit) বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছে।
এই সমালোচনার জবাবে তাকাইচি যুক্তি দেন, কর্মী ও নিয়োগকর্তার প্রয়োজন এক নয়। কেউ কেউ জীবনযাপন টিকিয়ে রাখতে একাধিক চাকরি করেন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত সময় কাজের সীমা কঠোরভাবে বেঁধে দেয়। তবে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার (Health Protection) বিষয়টি যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার পাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তাঁর মতে, “আমরা যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি যেখানে মানুষ সন্তান বা পরিবারের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি নিজের পছন্দমতো কাজ করতে পারে, অবসর ও বিশ্রাম উপভোগ করতে পারে—তাহলে সেটাই হবে আদর্শ।”
গত মাসে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সানায়ে তাকাইচি। ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)-র নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, “নিজের ক্ষেত্রে ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ শব্দটা আমি বাতিল করবো। আমি কাজ করবো, কাজ করবো, কাজ করবো।” বাস্তবেও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন।