ভূমিকা: হামজা চৌধুরীর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
প্রথমার্ধ জুড়ে হতাশার কালো মেঘ জমেছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের আকাশে। নেপালের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই যেন একাই সব অমানিশা দূর করার পণ করে মাঠে নামলেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। মাত্র পাঁচ মিনিটের এক ফুটবলীয় টর্নেডোতে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য একাই বদলে দিলেন এই মিডফিল্ড জেনারেল। তার জোড়া গোলে হারের শঙ্কা উড়িয়ে ২-১ গোলের লিডে ফিরেছে বাংলাদেশ।
অবিশ্বাস্য ৫ মিনিট: যেভাবে এলো জোড়া গোল
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটও পেরোয়নি। ৪৬তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের বাড়ানো ক্রস নেপালের এক ডিফেন্ডার হেড করে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেন। বক্সের সামান্য বাইরে বলটি পান অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, তার চিপে বাড়ানো বলে শরীর শূন্যে ভাসিয়ে এক চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিকে (Overhead Kick) বল জালে জড়ান হামজা। তার এই অবিশ্বাস্য অ্যাক্রোব্যাটিক গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় নেপালের রক্ষণভাগ এবং উল্লাসের সাগরে ভাসে পুরো স্টেডিয়াম।
সমতায় ফেরার স্বস্তি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশ শিবিরে আবার আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন হামজা। তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৪৮তম মিনিটে নেপালের পেনাল্টি বক্সে দুর্দান্ত গতিতে ঢুকে পড়া রাকিব হোসেনকে ফাউল করেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি। নিখুঁত Spot Kick থেকে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে লিড এনে দেন হামজা। এটি লাল-সবুজ জার্সিতে তার চতুর্থ গোল।
প্রথমার্ধের হতাশা ও নেপালের লিড
যদিও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল স্বপ্নময়, ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল ঠিক তার বিপরীত। বল দখলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি। বিশেষ করে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম বক্সে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। উল্টো খেলার ধারার বিপরীতে ২৯তম মিনিটে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। রক্ষণের সাময়িক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি কাট-ব্যাক থেকে পাওয়া বলে নিচু শটে নেপালকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ রোহিত চাঁদ। এই এক গোলের হতাশা নিয়েই বিরতিতে গিয়েছিল হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা।
পরিসংখ্যান ভাঙার পথে বাংলাদেশ
এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বদলেরও একটি সুযোগ। গত পাঁচ বছরে নেপালের বিপক্ষে খেলা শেষ পাঁচটি ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনটিতে ড্র এবং দুটিতে পরাজিত হয়েছিল দল। নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয় এসেছিল ২০২০ সালে। হামজা চৌধুরীর এই অনবদ্য পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে দীর্ঘদিনের সেই জয়খরা কাটানোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্বাগতিকরা।