বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আগামী ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই ড্র দলের জন্য একটি মিশ্র বার্তা বয়ে আনল।
প্রথমার্ধের হতাশা ও পিছিয়ে পড়া
ম্যাচের শুরু থেকেই দর্শকরা লেস্টার সিটি তারকা হামজা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধ ছিল একেবারেই হতাশাজনক। কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা বলের দখল রাখতে পারলেও আক্রমণে ধার ছিল না। হামজা মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরির চেষ্টা করলেও ফরোয়ার্ড লাইনের ব্যর্থতায় কার্যকর কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ফয়সাল আহমেদ ফাহিম প্রতিপক্ষের বক্সে কয়েকবার হানা দিলেও গোলের দেখা পাননি।
এরই মধ্যে খেলার ধারার বিপরীতে ২৯তম মিনিটে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। নেপালের রোহিত চাঁদ বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি কাট-ব্যাক থেকে পাওয়া বলে নিচু শটে বল জালে জড়ান।এই এক গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে লাল-সবুজের দল।
দ্বিতীয়ার্ধে হামজার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা মাঠে নামান সমিত সোমকে। তবে সব আলো কেড়ে নেন হামজা চৌধুরী। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই তার দুর্দান্ত এক গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে ফাহিমের ক্রসে নেপালের এক ডিফেন্ডার হেড করে বল বিপদমুক্ত করতে গেলে বক্সের বাইরে তা পান জামাল ভূঁইয়া। জামালের বাড়ানো বলে এক অসাধারণ বাইসাইকেল কিকে গোল করে স্টেডিয়ামকে উচ্ছ্বাসে ভাসান হামজা।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হামজার ঝলক। সমতায় ফেরার মাত্র তিন মিনিটের মাথায়, ৪৮তম মিনিটে, রাকিব হোসেন নেপালের ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। স্পট কিক থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হামজা। এটি ছিল লাল-সবুজের জার্সিতে তার চতুর্থ গোল।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা ও জয় হাতছাড়া
হামজা যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, নেপালের রক্ষণভাগকে ক্রমাগত চাপের মুখে রেখেছিলেন। তবে ৮০তম মিনিটে হালকা চোটের কারণে সতর্কতা হিসেবে কোচ তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন। তার অনুপস্থিতিতেই যেন খেলার নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে বাংলাদেশ।
ম্যাচ যখন প্রায় শেষের পথে, জয়ের জন্য যখন মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা, ঠিক তখনই ঘটে বিপর্যয়। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩') একটি কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে অনন্ত তামাং আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দিলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। নেপালকে সমতায় ফিরিয়ে জয়ের খুব কাছে এসেও ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। এই ফলাফলে নেপালের বিপক্ষে জয়খরা কাটানোর অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো।