• দেশজুড়ে
  • রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জাওয়াদুল হক নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় প্রাণনাশের হুমকি ।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জাওয়াদুল হক নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় প্রাণনাশের হুমকি ।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জাওয়াদুল হক নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় প্রাণনাশের হুমকি ।

মোঃ আবুল বাশার, রাজশাহী প্রতিনিধি।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জাওয়াদুল হক নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে প্রকল্পে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবির যে অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।

০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, কল ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এসবের ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপাচার্য বলেন, গত ২ মার্চ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জড়িয়ে ‘প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ’ প্রকাশিত হয়। অভিযোগকারী হিসেবে ‘জেনিথ করপোরেশন’ ও ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম উল্লেখ করা হলেও এই দুটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। যারা দরপত্রে অংশ নেয়নি, তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পেরে একটি চক্র অপপ্রচারে নেমেছে। তার ভাষ্য, ‘জেনিথ করপোরেশন’-এর মালিক আতাউর রহমান টিপু টেন্ডার ডাটা শিট (টিডিএস) তার শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) পরিপন্থী। বড় প্রকল্পে ‘স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স’ প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার বিধান থাকলেও তা ৫০ শতাংশের নিচে নামানোর দাবি করা হয় বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘এম জামাল কোং’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কারিগরি ব্যাখ্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রাখার নির্দেশ দেয়।

উপাচার্য অভিযোগ করেন, একটি মহল সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তাকে পদচ্যুত করার চেষ্টা করছে, যাতে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে উপাচার্যের পদে বসিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া যায়। তবে কোনো চাপ বা হুমকিতে প্রশাসন নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে তিনি জানান।

রামেবির চলমান মেগা প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, অপপ্রচার ও হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেনিথ কর্পোরেশনের মালিক আতাউর রহমান টিপুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।