• দেশজুড়ে
  • পদ্মা সেতুর পথে ‘বোতলনেক’ কুন্ডেরবাজার ব্রিজ: তীব্র যানজটে স্থবির ৪ উপজেলাবাসীর চলাচল

পদ্মা সেতুর পথে ‘বোতলনেক’ কুন্ডেরবাজার ব্রিজ: তীব্র যানজটে স্থবির ৪ উপজেলাবাসীর চলাচল

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পদ্মা সেতুর পথে ‘বোতলনেক’ কুন্ডেরবাজার ব্রিজ: তীব্র যানজটে স্থবির ৪ উপজেলাবাসীর চলাচল

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি,

মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর থেকে টঙ্গীবাড়ী হয়ে সিরাজদিখান ও রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মুন্সীগঞ্জ–বেতকা–নিমতলী রুটের কুন্ডেরবাজার বেইলি ব্রিজে তীব্র যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ছে শত শত যানবাহন। এতে জেলার চার উপজেলার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ–টঙ্গীবাড়ী–সিরাজদিখান হয়ে ঢাকা অভিমুখী সড়কের তালতলা গৌরগঞ্জ খালের ওপর নির্মিত প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের কুন্ডেরবাজার বেইলি ব্রিজে একটানা যানবাহনের চাপ লেগেই আছে। সেতুটি একমুখী হওয়ায় (ওয়ানওয়ে) বিপরীত দিকের যানবাহন থামিয়ে রেখে এক পাশ দিয়ে গাড়ি পার করা হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পাশে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেল।

বিশেষ করে বড় বড় পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন ব্রিজে উঠলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। অনেক সময় কয়েকশ’ মিটার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের লাইন তৈরি হয়। এতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জেলা শহর থেকে পদ্মা সেতু পয়েন্টে যেতে সড়কপথে এই রুটটিকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকাগামী যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এ সড়কে জেলার মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান ও লৌহজং উপজেলার যাত্রীরা নিয়মিত চলাচল করেন। ফলে এই বেইলি ব্রিজে যানজট সৃষ্টি হলে চার উপজেলার মানুষের ঢাকায় ও মুন্সীগঞ্জ সদরে যাতায়াত এবং মালামাল পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে নির্মিত কুন্ডেরবাজার বেইলি ব্রিজটি এখনও পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হওয়ায় সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু দিয়ে বর্তমানে যানবাহনকে একমুখীভাবে চলাচল করতে হয়, যা যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী ও সিরাজদিখানের একটি বড় অংশের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের প্রধান সংযোগ সড়ক হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ–বেতকা–নিমতলী সড়ক। এই সড়ক ব্যবহার করে নিমতলী হয়ে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে উঠেই সহজে রাজধানীতে যাওয়া যায়। একইভাবে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পথচারী সফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বাইক নিয়ে ৩০ মিনিট ধরে জ্যামে আটকা পড়েছি। ঢাকাতে যাবো। এ ব্রিজটি একটি অভিশপ্ত ব্রিজ। কর্তৃপক্ষ তো বসে বসে বেতন পায়, আমাদের ভোগান্তী কমাতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এখানে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আধুনিক দুই লেনের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু সেতুর দুই পাশের সড়ক ইতোমধ্যে টু-ওয়ে, তাই যান চলাচলের সুবিধার্থে নতুন সেতুটি আরও প্রশস্ত করে দুই লেনে নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সওজ) নাজমুস হোসেন সাকিব বলেন, টেন্ডার কার্যক্রম চলমান আছে। যানজট ও ভোগান্তী কমাতে এই ব্রিজটির পাশ দিয়েই একটি দৃষ্টিনন্দন একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে কুন্ডেরবাজার বেইলি ব্রিজের যানজট ও ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।