• দেশজুড়ে
  • কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের ৩৬ একর জায়গার ৭০ ভাগ এখনো শহর আওয়ামী লীগের দখলে

কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের ৩৬ একর জায়গার ৭০ ভাগ এখনো শহর আওয়ামী লীগের দখলে

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের ৩৬ একর জায়গার  ৭০ ভাগ এখনো শহর আওয়ামী লীগের দখলে

আমিন হাসান,কুষ্টিয়া

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় ধরে রাখতে যখন যা পেয়েছে তখন তাই গিলে ফেলেছে। দেশের উন্নয়ন না পরায়ন ঘটেছে সেদিকে খেয়াল রাখেননি এইসব নেতারা। দিনের পর দিন ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে চোখের সামনে যা পেয়েছে সেগুলোই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভারী করতে ধ্বংস করেছেন। ঠিক তেমনি কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের ৩৬ একর জায়গার প্রায় ৭০ ভাগ জায়গা আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের পরিবারের দখলে। অবৈধ ভাবে জায়গা দখলে অংশ নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ, শহর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের দোসর পুলিশ সদস্য, স্থানীয় কাউন্সিলসহ আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও লুটেপুটে খেতে সাহায্য করেছেন মোহিনী মিলের দেখভাল করা দায়িত্বে থাকা অসৎ কর্মকর্তারা।

মোহিনী মিলের জি এম বাংলো তাইজাল আলী খানের দখলে তিনি কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি। মিলের ১ নম্বর গেটের সামনে খালি জায়গা দখল করে রেখেছেন ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি তাইজাল আলী খানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান রনি। মিল লাইন কোয়াটারের জায়গা দখল করেছেন কুষ্টিয়া আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন তিনিও তাইজল আলী খানের ভাগ্নে। মোহিনী মিলের কোয়াটার ও হাসপাতাল কোয়াটার এবং মোহিনী মিলের মাঠ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন মুসা আলী খান। ছোট ছোট ঘর নির্মাণ করে ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকা বাড়ি প্রতি নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনিও তাইজাল আলী খানের ভাগ্নে। মোহিনি মিলে রেস্ট হাউস দখল করে রেখেছেন নাসির উদ্দিন। তিনিও তাইজাল আলী খানের বাড়ির কেয়ারটেকার। মোহিনী মিলের হাসপাতালের পাশে তাইজাল আলী খানের বাবার নামে একটি ক্লাব তৈরি করে সেখানেও অবৈধভাবে জায়গা দখল করে রেখেছেন । স্টাফ কোয়ার্টারের জায়গা দখল করে রেখেছেন তাইলজাল আলী খানের ভাইরা ও পঞ্চ পান্ডবের এক পান্ডব আমিরুল ইসলামের ভগ্নি পতি মিরাজ। এছাড়াও তাইজাল আলী খানের ছেলে ওহিদুজ্জামান রনি মিলপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে সেখানে তৈরি করেছেন বাগানবাড়ি। সন্ধ্যা হলেই চলে মাদকের অভয়ারণ্য।

মোহিনী মিলের হাসপাতালের আরও একটি আংশে জায়গা দখল করে রেখেছেন ইসমাইল হোসেন ওরফে পানি মন্ত্রী ও সাবেক পুলিশ সদস্য শরাফ উদ্দিন (শরিফুল)। সাবেক কাউন্সিলর নিজামুদ্দিন খান এক সময় হামিদুল বাহিনীর ক্যাশিয়ার ছিলেন তিনিও দখল করে রেখেছেন মহিনি মিলের সম্পত্তি। মোহীনী মিলের সিনেমা হলের জায়গা দখল করে রেখেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আল মদিনা ও ডালমিলের ইলেকট্রিশিয়ান পিরু।

মিল সূত্রে জানা যায়, সচল অবস্থায় মোহিনী মিল সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কলের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মিল। কুষ্টিয়ার অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্ত্ব মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়া মোহিনী মিলস এন্ড কোম্পানী লিমিটেড নামে এই কাপড়ের মিলটি প্রতিষ্ঠা করেন। সমসাময়িক কালে অন্যান্য বস্ত্র কলের তুলনায় এই মিলের উৎপাদন অনেক বেশী মানসম্পন্ন ছিল বলে কালক্রমে এটি দেশের অন্যতম সেরা কাপড়ের মিলে পরিণত হয়।সচল অবস্থায় মোহিনী মিল সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কলের স্বীকৃতি লাভ করে। মাত্র ৮টি তাঁত নিয়ে মিলটি উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তীতে মোহিনী মিল ব্যপ্তি লাভ করে। এর শ্রমিক সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে উন্নীত হয়। মোহিনী মিলের শাড়ি ও ধুতী বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে।

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলের অর্ধেক জমি এখনও আওয়ামী লীগের দশকদের দখলে। অবহেলা আর অযত্নে মিলের বিভিন্ন স্থাপনা এখন ধ্বংসের পথে। ১৯৮২ সালে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে কারখানার জমি বেদখল হয়ে গেছে। কারখানার মুল অংশসহ বাইরের কিছু জায়গা মিলে প্রায় সাড়ে ১৬ একর জমি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। মিলের ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তার খসে পড়েছে। বটগাছসহ নানা লতাপাতায় ঢেকে গেছে যন্ত্রাংশ। চারদিকে গজিয়েছে নানা গাছপালা। পুরো কারখানা চত্বর পরিনত হয়েছে জঙ্গলে। মিলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

এই কারখানাটি বিক্রির জন্য লিকুইডেশন সেল বা বিলুপ্তির দরপত্র ১৯৮১ সালের জুনে গঠন করে দেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়। তবে ৪২ বছরেও এটি বিক্রি করতে পারেনি তারা। এখন লিকুইডেশন সেলের ১৫ জনের বেশি কর্মচারী কারখানাটি দেখভাল করেন। প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা নেতাদের থাবার কারনে প্রতিনিয়ত মিলের জায়গাজমির বেহাত হওয়া ঠেকানো যায়নি। শুধু এই কারখানা নয়, আরও ৩টি কারখানা বিক্রি করতে পারেনি এই সেল। ফলে এ সেলে কর্মরত ব্যক্তিদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন-ভাতা কার্যালয় ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ দিতে হচ্ছে সরকারকে। অন্যদিকে বন্ধ থাকায় কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়াসহ সম্পদের অপচয় হচ্ছে। আস্তে আস্তে বেদখল হচ্ছে মিলের বেঁচে থাকা অবশিষ্ট জায়গাজমিও।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মোহীনী মিলের ম্যানেজার মাহাবুল ইসলামের কাছে দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমার পূর্বের যারা ছিল তারা কোন নথিপত্র আমাকে দিয়ে যায়নি এবং কারা দখল করে রেখেছেন সে বিষয়ে কোনো কিছু মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়নি হয়তো।

এ বিষয়ে অবৈধ দখলদারি শহর আওয়ামী লীগের তাইজল আলী খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদ বিন-হাসানে সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।