• দেশজুড়ে
  • রাজশাহীতে বিচারকের ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা: ছুরিকাঘাতে আহত স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক

রাজশাহীতে বিচারকের ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা: ছুরিকাঘাতে আহত স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রাজশাহীতে বিচারকের ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা: ছুরিকাঘাতে আহত স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক

মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারকের ভাড়া বাসায় নবম শ্রেণির ছাত্র তাওসিফ খুন; হত্যার হুমকি পেয়ে জিডি করেছিলেন স্ত্রী।

বিচারকের বাসায় হামলা: শ্বাসরোধ করে স্কুলছাত্র খুন

রাজশাহীতে নিজ ভাড়া বাসায় বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের পরিবার। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা আড়াইটার পর রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকায় বিচারকের বাসায় তাঁর ছেলে তাওসিফ রহমান (সুমন) (নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী) হত্যার শিকার হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, বিচারকের ছেলেকে সম্ভবত শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় শ্বাসরোধ করার চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার এক পায়ের আঙুলে কাটা রয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে শ্বাসরোধজনিত হত্যা (Death by Strangulation) হিসেবে ধারণা করছে।

হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও (৪৪) গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রোপচার (Surgery) করা হয়েছে।

হামলার মোটিভ ও ঘটনার বিবরণ

পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে (৩৫) আটক করেছে। অভিযুক্ত লিমনও আহত হওয়ায় তাঁকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লিমনের হাতে, মাথায় ও পায়ে জখম রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, লিমন মিয়া একটি ব্যাগ নিয়ে বাসায় ঢোকেন এবং ডাইনিং টেবিলে বসে তাসমিন নাহারের সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করছিলেন। একপর্যায়ে লিমন উত্তেজিত হয়ে ব্যাগ থেকে ছুরি বের করলে তাসমিন নাহার একটি কক্ষে ঢুকে সিটকিনি লাগিয়ে দেন। লিমন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ধস্তাধস্তি শুরু করেন।

পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা বিচারকের ছেলে তাওসিফ শব্দ শুনে উঠে এলে এবং হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করলে তাকে ওড়না জাতীয় কিছু দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ ধারণা করছে। এর মধ্যে বাসার কাজের মেয়েটি দৌড়ে বাইরে এসে অন্য ফ্ল্যাটের লোকজনকে খবর দেয়। জানা গেছে, হামলার মাত্র এক সপ্তাহ আগে হত্যার হুমকি পেয়ে বিচারকের স্ত্রী সাধারণ ডায়েরি (GD) করেছিলেন।

ভবনের দারোয়ান মেসের আলীর মতে, অভিযুক্ত যুবক বিচারককে ‘ভাই’ পরিচয় দেওয়ায় তিনি ঢুকতে দেন। রাত নয়টার দিকে জানা যায়, হামলাকারীর জ্ঞান ফিরেছে এবং পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।