• রাজনীতি
  • গণভোট বা ‘জুলাই সনদ’ সরাসরি আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ

গণভোট বা ‘জুলাই সনদ’ সরাসরি আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
গণভোট বা ‘জুলাই সনদ’ সরাসরি আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে স্বাগত জানালো বিএনপি; স্থায়ী কমিটির সদস্যের হুঁশিয়ারি, জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বে (Sovereignty) কোনো হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।

প্রধান বক্তা: গণভোট ও সংসদের সার্বভৌমত্ব

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন (National Election) এবং জুলাই জাতীয় সনদ (July National Charter) বাস্তবায়নে গণভোট (Referendum) একই দিনে অনুষ্ঠানের যে সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা করেছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। তবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন।

আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “মনে রাখতে হবে, গণভোটের মধ্য দিয়ে আইনপ্রণয়ন (Law-making) করা হয়ে যাবে না। গণভোটের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন (Constitution Amendment) হয়ে যাবে না। এর জন্য আগে অবশ্যই জাতীয় সংসদ (National Parliament) গঠিত হতে হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের (Sovereignty) প্রশ্নে বিএনপি সর্বদা সোচ্চার থাকবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ক্ষমতা কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ হোক, তা তাঁরা চান না। সে কারণে, কোনো আরোপিত আইন (Imposed Law), নির্বাহী আদেশ (Executive Order) বা জবরদস্তিমূলক প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ তাঁরা হতে দেবেন না।

জাতীয় সংসদের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান

সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা প্রতিপালনে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এর বাইরে যদি চাপিয়ে দেওয়া, জবরদস্তিমূলক কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়, তা জনগণ বিবেচনা করবে। তাঁর এই বক্তব্য মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা (Absolute Power) ও আইনি বৈধতাকে সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়। এটি বস্তুত প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত গণভোটের রায়কে জাতীয় সংসদ দ্বারা অনুমোদনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট করার আহ্বান।

নারীর কর্মঘণ্টা হ্রাস: 'খারাপ উদ্দেশ্য'-এর প্রতিফলন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মৌন মিছিল ও সমাবেশে দেশের একটি গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন, যারা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার (Political Tool) বানিয়ে সমাজে ব্যবসা করছে। তিনি বলেন, তাদের হাতেই নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে এবং তারা চায় এ দেশের নারীরা যেন অন্দরমহলে বন্দী থাকে।

তিনি বিশেষত কর্মঘণ্টা (Work Hours) কমিয়ে দেওয়ার যে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে নারীদের কর্মসংস্থান (Job Creation) কমে যাবে। নারীরা যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ করবে। কর্মঘণ্টা কমানোর সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিপরীত সম্পর্ক আছে। কাজেই যাঁরা নারীর কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য খারাপ। এটি নারীর অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করার একটি অপচেষ্টা।”

নারী সমাজের ক্ষোভ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই

‘নারীর উপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসম্মান: প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজ’ শীর্ষক এই মৌন মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। ফোরামের আহ্বায়ক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সভাপতির বক্তব্যে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নারীরা তাঁদের মর্যাদা ফিরে পাবেন বলে তাঁরা ভেবেছিলেন, কিন্তু দেশে আজ আবার নারীরা অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছেন।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে স্লোগান দেন, ‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে,’ যা নারী শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আট ঘণ্টার পরিবর্তে পাঁচ ঘণ্টা করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নারী সমাজের প্রতিরোধের সংকেত।

এছাড়াও, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস মন্তব্য করেন, নারীর কর্মপরিসরে কাজ করা বা ঘরে থাকা—এটা একান্তই নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত (Personal Decision)। তিনি বলেন, “নারীর কোনো দান, দয়া, দাক্ষিণ্যের প্রয়োজন হয় না। নারীরা ঘর সামলাবেন না বাইরে থাকবেন, সেটা একান্তই নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার (Personal Freedom) বিষয়। নারীদের সিদ্ধান্ত নারীদেরই নিতে দিন।” জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান বলেন, যে জুলাই সনদে নারীর কথা নেই, সেই সনদ নারীরা প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি প্রকৃত উন্নয়নকে সংজ্ঞায়িত করে বলেন, “প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে সেই উন্নয়ন, যেখানে রাত্রিবেলায় নারী নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।”