বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় তিনি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, অথচ ডিজিটাল দুনিয়ায় তার অস্তিত্ব যেন এক ‘ভৌতিক’ রহস্য। কথা হচ্ছে রণবীর কাপুরকে নিয়ে। স্ত্রী আলিয়া ভাট যখন ইনস্টাগ্রামে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত শেয়ার করে ৮.৬ কোটি (86 Million) অনুসারীর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করেন, তখন রণবীর কাপুর বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ। নিজেকে ‘Digital Detox’-এর আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন এই অভিনেতা। কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হলো, প্রকাশ্যে কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকলেও, গোপনে অন্যের ওপর ঠিকই ‘নজরদারি’ চালান তিনি!
রণবীরের ‘সিক্রেট’ ডিজিটাল দুনিয়া
শোনা যায়, রণবীর কাপুর অফিশিয়ালি কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নেই, কিন্তু তার একটি ‘বেনামি’ বা Fake Account রয়েছে। বি-টাউনের গুঞ্জন, এই গোপন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই তিনি সহকর্মী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনযাপন এবং ইন্ডাস্ট্রির হালচাল পর্যবেক্ষণ করেন। যাকে আধুনিক পরিভাষায় বলা যেতে পারে ‘Digital Stalking’। তবে নিজের এই গোপন জগতটি এতটাই সযত্নে লুকিয়ে রেখেছেন যে, খোদ স্ত্রী আলিয়া ভাটকেও সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেননি তিনি।
আলিয়া ভাট নিজেই এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতেগোনা কয়েকজনকে ‘ফলো’ (Follow) করেন, কিন্তু সেই তালিকায় তার স্বামী রণবীরের নাম নেই। এর কারণ রণবীরের কড়া নিষেধাজ্ঞা।
মায়ের ভুলে ফাঁস ‘আরকেএস’ রহস্য?
রণবীরের এই কঠোর গোপনীয়তার প্রাচীরে সম্প্রতি সামান্য ফাটল ধরান তার মা, নীতু কাপুর। গত ২৮ সেপ্টেম্বর, রণবীরের জন্মদিনে ছেলেকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নীতু কাপুর একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করেন। সেই অ্যাকাউন্টের নাম ছিল ‘আরকেএস’ (RKS)। কাপুর পরিবারে ‘আরকে’ (RK) বা রাজ কাপুরের নামের আদ্যক্ষর ব্যবহারের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। ফলে নেটিজেনদের বুঝতে বাকি থাকেনি যে, এই ‘RKS’ হ্যান্ডেলটিই সম্ভবত রণবীরের সেই বহুচর্চিত গোপন অ্যাকাউন্ট।
যদিও আলিয়া ভাট বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, রণবীর তার ৪৩তম জন্মদিনে এই অ্যাকাউন্টটি খুলেছেন। তবে মজার বিষয় হলো, এই অ্যাকাউন্টে মাত্র দুটি ভিডিও রয়েছে এবং সেগুলো তাদের মেয়ে রাহার। অর্থাৎ, এটি একান্তই ব্যক্তিগত স্মৃতির ভাণ্ডার।
কেন আলিয়াকে ‘ফলো’ করতে বারণ রণবীরের?
রণবীরের এই অদ্ভুত নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে এক সুচিন্তিত কৌশল বা Strategy। আলিয়া ভাট সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপে থাকে মিডিয়ার কড়া নজর। আলিয়া জানান, রণবীর তাকে স্পষ্টভাবে বারণ করেছেন তার গোপন অ্যাকাউন্টটিকে ‘ফলো’ করতে।
রণবীরের যুক্তি অত্যন্ত পরিষ্কার—আলিয়া যদি তাকে ফলো করেন, তবে তার ৮৬ মিলিয়ন ফলোয়ার এবং মিডিয়া খুব সহজেই বুঝে যাবে যে এটিই রণবীরের আসল প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট। আর একবার জানাজানি হলে তার গোপনীয়তা বা Privacy পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। রণবীর চান না তার ব্যক্তিগত ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট (Digital Footprint) জনসমক্ষে আসুক।
তারকা ইমেজের রক্ষণশীল কৌশল
রণবীর কাপুরের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার পেশাগত দর্শনও কাজ করে। তিনি মনে করেন, একজন তারকার উচিত নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখা, যাতে দর্শকের কৌতূহল বজায় থাকে। রণবীর বলেন, ‘‘আমি চাই, দর্শক আমাকে কেবল সিনেমার পর্দাতেই দেখুক।’’ অতিরিক্ত সহজলভ্য হয়ে গেলে তারকার ‘Star Mystique’ বা রহস্যময়তা নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করেন তিনি। ডিজিটাল যুগে যেখানে সবাই নিজেকে প্রচারের আলোয় আনতে ব্যস্ত, সেখানে রণবীরের এই ‘ওল্ড স্কুল’ বা ধ্রুপদী চিন্তাধারা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে।