• দেশজুড়ে
  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড: পার্কিংয়ে রাখা মিনিবাস ভস্মীভূত, তদন্তে পুলিশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড: পার্কিংয়ে রাখা মিনিবাস ভস্মীভূত, তদন্তে পুলিশ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড: পার্কিংয়ে রাখা মিনিবাস ভস্মীভূত, তদন্তে পুলিশ

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অফিসের সামনে ভোর ৬টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। চালক রাতভর বাসটি ফেলে রাখায় বেড়েছে সন্দেহের মেঘ, প্রাথমিক তদন্তে ‘ইলেক্ট্রিক্যাল ফল্ট’র অনুমান।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): সাতসকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পার্কিং অবস্থায় থাকা একটি মিনিবাসে হঠাৎ আগুন লেগে সম্পূর্ণ রূপে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ভোর ৬টা নাগাদ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা বড় ধরনের বিপদ এড়িয়েছে।

সওজ দপ্তরের সামনে দীর্ঘ পার্কিং: সন্দেহের সৃষ্টি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিনিবাসটি শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মহাসড়কের শিমরাইল এলাকার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অফিসের সামনে পার্ক করে যান চালক। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে বাসটি জনশূন্য অবস্থায় সেখানেই দাঁড়ানো ছিল। শনিবার ভোর ৬টার দিকে স্থানীয়রা মিনিবাসটির ভেতর থেকে প্রথমে ধোঁয়া এবং দ্রুতই দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন।

মুহূর্তের মধ্যে আগুন বাসের সিট, কাচ ও ভেতরের অন্যান্য অংশে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের তৎপরতায় এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়ার পর দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হয়। তবে ততক্ষণে বাসের অভ্যন্তরের একটি বড় অংশ এবং আসনগুলি প্রায় পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষয়ক্ষতি গুরুতর, এড়ানো গেছে প্রাণহানি

আগুন লাগার কারণে বাসের বসার স্থান, জানালার কাচসহ ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাতে বা ভোরে বাসটিতে কোনো যাত্রী বা কর্মীর উপস্থিতি না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, শুধুমাত্র গাড়ির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

প্রাথমিক অনুমান: ‘ইলেক্ট্রিক্যাল ফল্ট’ নাকি ‘আর্সন’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মহাসড়কের পাশে পার্ক করা একটি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ওসি বলেন, "আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, দীর্ঘক্ষণ পার্কিংয়ে থাকার কারণে কোনো Mechanical Fault বা Electrical Short Circuit থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।"

তবে রাতের বেলা এত দীর্ঘ সময় ধরে বাসটি জনশূন্য অবস্থায় পার্কিংয়ে থাকার বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ (Arson) ছিল নাকি নিছকই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের গতিপথ: সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ

এই রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। ওসি আরও জানিয়েছেন, কেবল 'যান্ত্রিক ত্রুটি' নয়, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশেপাশের সওজ দপ্তর কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের CCTV ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দ্রুতই অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।