• আন্তর্জাতিক
  • জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় আকাশ বন্ধ: দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘সুনুং’ পরীক্ষার জন্য ৩৫ মিনিটের জন্য বন্ধ ছিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল

জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় আকাশ বন্ধ: দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘সুনুং’ পরীক্ষার জন্য ৩৫ মিনিটের জন্য বন্ধ ছিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় আকাশ বন্ধ: দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘সুনুং’ পরীক্ষার জন্য ৩৫ মিনিটের জন্য বন্ধ ছিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল

কলেজ ভর্তি পরীক্ষা 'সুনুং' কে কেন্দ্র করে সিউলজুড়ে পুলিশের বিশেষ সেবা ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেরিতে উপস্থিতি। সাড়ে পাঁচ লাখ পরীক্ষার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয় এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক কলেজ ভর্তি পরীক্ষা, যা ‘Suneung’ (সুনুং) নামে পরিচিত, সেই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল ৩৫ মিনিটের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সুনুং: শুধু পরীক্ষাই নয়, ভবিষ্যতের চাবিকাঠি

সুনুং পরীক্ষা দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ, এই পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের ভর্তি, ভবিষ্যৎ Career (পেশা) এবং সমাজে তাদের Social Status (সামাজিক মর্যাদা)। দেশটির সরকার তাই এই পরীক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

Key Actions (প্রধান পদক্ষেপ)-গুলো ছিল:

বিমান চলাচল বন্ধ: ইংরেজি Listening Test (লিসনিং পরীক্ষা) চলাকালীন দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত জরুরি ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ: রাস্তায় যেন কোনো যানজট না লাগে, সে জন্য ব্যাংক ও সরকারি কর্মকর্তাদের এক ঘণ্টা দেরিতে অফিসে আসতে বলা হয়।

পুলিশের দ্রুত সেবা: প্রতি বছরের মতো এবারও পুলিশ Motorcycle Squad (মোটরসাইকেল স্কোয়াড)-এর মাধ্যমে দ্রুত সেবা প্রদান করে। কোনো শিক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে তাদের দ্রুত মোটরবাইকে করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।

চলতি বছর এই পরীক্ষায় ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী Registration (নিবন্ধন) করেছে।

পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও অভিভাবকদের প্রার্থনা

পরীক্ষা শুরুর আগে সিউলের ইয়ংসান হাইস্কুলে পরীক্ষার্থীদের ভিড় শুরু হয় ভোর থেকেই। ১৮ বছর বয়সী কিম মিন-জে নামে এক পরীক্ষার্থী কিছুটা নার্ভাস হলেও প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমার চেয়ে বাবা-মা বেশি চিন্তিত।”

আসলে কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, তাদের মা-বাবাও এই পরীক্ষাকে ঘিরে চরম মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। কোরিয়ায় এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কিছু Superstition (কুসংস্কার) চালু আছে। যেমন, এদিন কোনো পরীক্ষার্থী 'Seaweed Soup' (সি-উইড স্যুপ) খান না, কারণ এটি খেলে নাকি পরীক্ষার ফল 'নিচের দিকে নেমে যেতে পারে'—এমন একটি ধারণা প্রচলিত।

অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের হলে পাঠিয়ে পুরোটা সময় গির্জা বা বৌদ্ধমন্দিরে প্রার্থনায় কাটিয়ে দেন। ৫০ বছর বয়সী হান ইউ-না নামের এক মা জানান, “পরীক্ষার সময়সূচি মেনে আমিও পুরোটা সময় প্রার্থনা করব। ছেলে যখন বিরতি নেবে, আমিও নেব।”

এই জাতীয় পরীক্ষার দিন দক্ষিণ কোরিয়ার জনজীবনে যে ধরনের Disruption (ব্যাহত) এবং বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়, তা দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি তাদের National Commitment (জাতীয় অঙ্গীকার)-এরই প্রতিফলন।