• বিনোদন
  • দুটি বড় ছবি হাতছাড়া, তবু ৮ ঘণ্টার দাবিতে অনড় দীপিকা! মাতৃত্বই কি বদলে দিল ‘সুপারস্টার’ অভিনেত্রীর সমীকরণ?

দুটি বড় ছবি হাতছাড়া, তবু ৮ ঘণ্টার দাবিতে অনড় দীপিকা! মাতৃত্বই কি বদলে দিল ‘সুপারস্টার’ অভিনেত্রীর সমীকরণ?

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
দুটি বড় ছবি হাতছাড়া, তবু ৮ ঘণ্টার দাবিতে অনড় দীপিকা! মাতৃত্বই কি বদলে দিল ‘সুপারস্টার’ অভিনেত্রীর সমীকরণ?

‘ক্লান্ত মানুষকে দিয়ে সেরাটা করানো যায় না’, মাতৃত্ব পরবর্তী জীবনে কাজের চেয়েও শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন অভিনেত্রী।

প্রথমে প্রভাসের সঙ্গে ‘স্পিরিট’, তারপর ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র বহু প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল—পরপর দুটি মেগা প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়লেন দীপিকা পাড়ুকোন। কারণ একটাই, তিনি দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে নারাজ। প্রথম ছবিটি থেকে বাদ পড়ার পরেই এই নিয়ে যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল, ‘কল্কি’র সিক্যুয়েল থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। কিন্তু দুটি বড় ছবি হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, কেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত এবং কেন এই নিয়ম গোটা ইন্ডাস্ট্রিতেই চালু হওয়া উচিত।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? হারপার'স বাজার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা তার এই অবস্থানের পেছনের কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মাতৃত্ব তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। অভিনেত্রী বলেন, "মাতৃত্ব আমার জীবনে সবকিছু বদলে দিয়েছে। একটা কথা প্রচলিত আছে, 'তুমি যখন একজন মা হবে, তখনই বুঝতে পারবে'। এই কথাটা যে কতটা সত্যি, তা আমি এখন বুঝি। আমি এখন সমস্ত মায়েদের অনেক বেশি শ্রদ্ধা করি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আপনি হয়তো ভাবেন যে কাজ এবং মাতৃত্ব দুটোই একসঙ্গে সমান তালে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, কিন্তু বাস্তবে সেটা অনেক বেশি কঠিন। আমার মনে হয়, নতুন মায়েদের কাজে ফেরার সময় আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেক বেশি সহায়ক হওয়া উচিত।"

‘অতিরিক্ত কাজ মানেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা নয়’ চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ করাকে প্রায়শই তারকাদের নিষ্ঠা বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। এই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন দীপিকা। তার মতে, সুস্থ না থাকলে সেরাটা দেওয়া অসম্ভব। তিনি বলেন, "আমরা এই অতিরিক্ত কাজ করাকে আমাদের জীবনে একটি স্বাভাবিক অঙ্গ বলে ভেবে নিয়েছি। আমরা যখন ভীষণ ক্লান্ত হয়ে যাই, তখন সেটাকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে ভুল করি। শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দিনে আট ঘণ্টা কাজই যথেষ্ট। আপনি যদি সুস্থ থাকেন, তবেই আপনি আপনার সেরাটা দিতে পারবেন। একজন ক্লান্ত ব্যক্তিকে দিয়ে কখনওই সেরা কাজ করানো যায় না।"

দীপিকা শুধু মুখেই এই কথা বলছেন না, নিজের জীবনেও তা প্রয়োগ করছেন। তিনি জানান, "আমি আমার নিজের অফিসে সোমবার থেকে শুক্রবার আট ঘণ্টা কাজ করি। আমাদের সংস্থায় পিতৃত্ব এবং মাতৃত্ব, দুটি বিষয়কেই সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, ভারতবর্ষে শিশুদের কর্মক্ষেত্রে আনার বিষয়টিকেও স্বাভাবিক করে তোলা উচিত।"

থেমে নেই দীপিকার উড়ান ‘স্পিরিট’ বা ‘কল্কি’র সিক্যুয়েল থেকে বাদ পড়লেও দীপিকার কেরিয়ার থেমে নেই। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কন্যা দুয়াকে জন্ম দেওয়ার পর বিরতি নিয়ে তিনি আবার পুরোদমে কাজে ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি শাহরুখ খানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এছাড়াও, দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুনের বিপরীতে অ্যাটলি পরিচালিত ‘AA22 x A6’ ছবিতেও কাজ করতে চলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি একাধিক বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের কাজ তো রয়েছেই। দুটি ছবি হাতছাড়া হলেও, নিজের শর্তে কাজ করে দীপিকা পাড়ুকোন প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, তারকাখ্যাতির চেয়েও ব্যক্তিগত জীবন এবং সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব।