• দেশজুড়ে
  • ১৫০ উপজেলায় শুরু ‘স্কুল ফিডিং’ কার্যক্রম, ৩১ লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে খাবার: উদ্বোধন করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

১৫০ উপজেলায় শুরু ‘স্কুল ফিডিং’ কার্যক্রম, ৩১ লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে খাবার: উদ্বোধন করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
১৫০ উপজেলায় শুরু ‘স্কুল ফিডিং’ কার্যক্রম, ৩১ লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে খাবার: উদ্বোধন করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সপ্তাহে ৫ দিন ডিম, দুধ, পাউরুটি ও বিস্কুট; টেন্ডার জটিলতা কাটিয়ে এবার একসঙ্গে ১৯ হাজার ৪১৯টি স্কুলে সূচনা।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ১৫০টি উপজেলায় ‘স্কুল ফিডিং’ (School Feeding) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এই বৃহৎ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বেলুন উড়িয়ে এবং শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

৩১ লাখ শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ

এই প্রকল্পের আওতায় দেশের মোট ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। স্কুল কর্মদিবসে সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের এই খাবার দেওয়া হবে।

খাবারের তালিকায় পুষ্টির (Nutrition) দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় ফল, ফর্টিফাইড বিস্কুট (Fortified Biscuits), ১২০ গ্রাম ওজনের পাউরুটি, ডিম এবং দুধ। নাটোর জেলার মধ্যে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রথম ধাপে এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হলো।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, টেন্ডার (Tender) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এর আগে কয়েক দফায় প্রাথমিকের এই মিড ডে মিল (Mid Day Meal) চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, দেশের দারিদ্র্যের হার (Poverty Rate) বিবেচনায় এনে প্রতিটি জেলার অন্তত একটি উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। তবে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রতিটি উপজেলায়ই এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে।

শিক্ষার উদ্দেশ্য শিশুর সম্ভাবনা বিকশিত করা: উপদেষ্টা

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার শিশুদের সুপ্ত সম্ভাবনা (Potential) বিকাশের উপর জোর দেন।

তিনি বলেন, "প্রতিটি শিশুর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা লুকায়িত থাকে, কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়া তা জানা যায় না। ফলে আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো শিশুদের সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত করা।" তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, শিশুরা দেশের সুনাগরিক (Good Citizen) হিসেবে গড়ে উঠবে, সমাজে অবদান রাখবে এবং সমাজবিরোধী হবে না।

উপদেষ্টা শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে দেওয়ায় সরকারের ভূমিকা থাকলেও, তা দেখভাল করা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা করার দায়িত্ব সমাজের। তিনি বলেন, "আমাদের এই স্কুল ফিডিং আপনারা দেখেশুনে রাখবেন। আমরা যৌথভাবে (Jointly) কাজ করতে পারলে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার (Primary Education) গুণগত মান (Quality) অবশ্যই উন্নত হবে।"

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর, গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা বিভাগের আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।