ঐতিহাসিক রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণা
মানবতাবিরোধী অপরাধের (Human Rights Abuse) ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামি সোমবার (১৭ নভেম্বর)। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। আদালতের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (International Crimes Tribunal-1)-এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এদিন রায় ঘোষণা করবেন। পুরো দেশের নজর এখন এই ঘোষণার দিকে, যেখানে মামলার গুরুত্ব এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব অনস্বীকার্য।
সর্বোচ্চ সাজার আবেদন প্রসিকিউশনের
মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের জন্য Maximum Penalty অর্থাৎ সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘটিত অপরাধের দায় অনুযায়ী আসামিদের যেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।
জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই মামলাটিই ছিল প্রথম (Miscellaneous Case বা বিবিধ মামলা) যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়।
ওয়ারেন্ট ও সহ-অভিযুক্তদের অন্তর্ভুক্তি
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। তবে, বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মামলার পরিধি বাড়ে।
চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে আসামি করা হয়। তাঁরা হলেন—সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং আসাদুজ্জামান খান। এর ফলে মামলার মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় তিন।
চার্জশিটের বিশাল তথ্যভান্ডার
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাটিতে প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ (Charges) আনে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত ১২ মে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের (Official Charge Sheet) মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৪৭, যা এর বিস্তৃতি ও গভীরতা প্রমাণ করে। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার ছিল। এই বিপুল সংখ্যক প্রমাণের ভিত্তিতে ১ জুন ট্রাইব্যুনালে হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এই রায় এখন দেশের বিচারিক ইতিহাসের এক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।