ঢাকার মতিঝিলে মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার মামলায় তার রুমমেট শাহিন আলম আদালতে ‘দোষ স্বীকার’ করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালে শাহিন জবানবন্দি দিতে ‘সম্মত হওয়ায়’ তাকে আদালতে হাজির করে তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই মো. শাহরিন হোসেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রুকনুজ্জামান জানিয়েছেন।
গত সোমবার শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত।
শনিবার রাজধানীর কয়েক জায়গা থেকে ওবায়দুল্লাহর শরীরের কয়েকটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের পর শাহীনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যার কথা 'স্বীকার করেন'।
এ ঘটনায় ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিয়া রোববার মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ওবায়দুল্লাহ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে ঢাকার মতিঝিলের কমলাপুর কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি চিলেকোঠায় দুই রুমের একটি মেসে শাহীন আলমসহ ভাড়া থাকতেন।
অভিযোগে বলা হয়, শাহিন আলমের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর বিভিন্ন বিষয়ে ‘মনোমালিন্য; ছিল। মাঝেমধ্যে তাদের ঝগড়াও হত। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা ৪৩ মিনিটের দিকে ছোট ভাই জলিলের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর মোবাইল ফোনে সবশেষ কথা হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পল্টন থানাধীন আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন পা, বায়তুল মোকারম মসজিদের পূর্ব গেটের পাশে বিচ্ছিন্ন দুটি হাত এবং শাহজাহানপুর থানাধীন কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের পাশে আরেকটি বিচ্ছিন্ন পা পাওয়া যায়।
পরে পুলিশ হাত থেকে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহর পরিচয় শনাক্ত করে। ওবায়দুল্লাহর ভাড়া মেসের ঠিকানা পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে একটি রক্তমাখা ধারালো চাপাতি ও সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
একপর্যায়ে পুলিশ শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য মৃতদেহ খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার কথা শাহিন ‘স্বীকার করেন’ বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ যাত্রাবাড়ীর থানাধীন মাতুয়াইল বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র থেকে ওবায়দুল্লাহর বিচ্ছিন্ন মাথা, সাভারের আমিনবাজার সালেহপুর ব্রিজের নিচে তুরাগ নদী থেকে শরীরের মূল একাংশ উদ্ধার করে।
হামিদ মিয়ার অভিযোগ, শাহিন আলম ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯ টা ৪৩ মিনিট থেকে ১ টা ৫২ মিনিটের মধ্যে তাদের মেসের কক্ষে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন এবং মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ কেটে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসে।