বিশেষ বিবাহ আইনে গাঁটছড়া বাঁধার প্রায় দেড় বছর পর, বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা প্রথমবারের জন্য পা রাখলেন কোনো মসজিদের অন্দরে। স্বামী জাহির ইকবালের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবি সফরে গিয়ে বিশ্ববিখ্যাত শেখ জায়েদ গ্র্যাণ্ড মসজিদ পরিদর্শন করেন তিনি। এই অনন্য অভিজ্ঞতা এবং সফরের মুহূর্তগুলো নিজের ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভ্লগে তুলে ধরেছেন 'দাবাং' খ্যাত এই অভিনেত্রী।
জীবনের প্রথম মসজিদ দর্শন ও উচ্ছ্বাস আবু ধাবি পর্যটন বিভাগের বিশেষ আমন্ত্রণে এই সফরে যান সোনাক্ষী ও জাহির। ভ্লগের শুরুতেই সোনাক্ষী তার উত্তেজনা প্রকাশ করে বলেন, "আজ আমরা আবু ধাবিতে আছি... এবং এই সফরটি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ হতে চলেছে। আমি খুবই উত্তেজিত, কারণ জীবনে এই প্রথমবার আমি কোনো মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করব। এর আগে আমি মন্দির, গির্জায় বহুবার গিয়েছি, কিন্তু মসজিদের অন্দরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি।"মসজিদের স্থাপত্যশৈলী, শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।
জাহিরের সরস মন্তব্য ও ট্রোলারদের জবাব আন্তঃধর্মীয় বিবাহের কারণে সোনাক্ষী এবং জাহিরকে প্রায়শই সামাজিক মাধ্যমে নানা কটাক্ষের শিকার হতে হয়। মেয়ের এই সিদ্ধান্তে সিনহা পরিবার প্রথমে খুশি ছিল না বলেও গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। এই সমস্ত বিতর্কের আবহে, স্ত্রীর মসজিদ দর্শনের উত্তেজনা দেখে জাহির ইকবাল এক সরস মন্তব্য করেন। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, "একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিই, আমি ওকে এখানে ধর্ম পরিবর্তন করানোর জন্য নিয়ে আসিনি।"
স্বামীর এই মন্তব্যে হেসে ফেলেন সোনাক্ষী এবং পাল্টা জবাবে বলেন, "স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট, জিন্দাবাদ!" তাদের এই সহজ ও মজাদার কথোপকথন নেটিজেনদের মন জয় করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে তারা নিন্দুকদের এক মোক্ষম জবাব দিয়েছেন, যারা তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তোলেন।
বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার অনন্য মেলবন্ধন ভ্লগে সোনাক্ষী ও জাহির স্পষ্ট করে দেন যে, তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন একটি সংস্কৃতিকে জানা এবং ভ্রমণের সুন্দর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। জাহির আরও যোগ করেন, "আমরা শুধুমাত্র এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। যেভাবে আমরা মন্দির বা গির্জায় যাই, সেভাবেই এখানে এসেছি।"
তাদের এই সফর প্রমাণ করে যে, ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়েও একসাথে পথচলা সম্ভব। সোনাক্ষীর এই প্রথম মসজিদ ভ্রমণ এবং জাহিরের সহযোগিতামূলক মনোভাব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে, যা আধুনিক সমাজে এক অনন্য উদাহরণ।