বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ব্যাটিং শৈলী আর নিয়ন্ত্রিত শটের জন্য আলোচিত নাম সাইফ হাসান। জাতীয় দলের জার্সিতে আলো ছড়িয়ে এবার তিনি পা রাখতে যাচ্ছেন এক নতুন অভিজ্ঞতার জগতে। আবুধাবি টি-টেন লিগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে অভিষেক হতে যাচ্ছে এই টপ-অর্ডার ব্যাটারের।
টি-টেনের অভিজ্ঞতা, আয়ারল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি এই নতুন অধ্যায় নিয়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত সাইফ। যদিও আসন্ন আয়ারল্যান্ড সিরিজের কারণে পুরো টুর্নামেন্টের জন্য তাকে ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সিরিজের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘এনওসি’ (NOC) দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুযোগকেই বড় করে দেখছেন তিনি। আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও দ্রুততম ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টকে তিনি দেখছেন নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার আদর্শ মঞ্চ হিসেবে।
এই প্রসঙ্গে সাইফ বলেন, “আয়ারল্যান্ড সিরিজের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট খেলতে পারব না, তবে বিসিবি যে অর্ধেক সময়ের জন্য এনওসি দিয়েছে, এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে এটা আমার জন্য খুব ভালো একটা অনুশীলন হবে। আমি নিজের প্রসেসটা ঠিক রাখার চেষ্টা করব।”
আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে তাকে দেশে ফিরতে হবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য।
সাকিবের সান্নিধ্য ও দেশের ক্রিকেটের জয়গান আবুধাবি টি-টেন লিগে রয়্যাল চ্যাম্পসের হয়ে খেলবেন সাইফ। একই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসানও অংশ নিচ্ছেন। সাকিবের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ নিয়েও উচ্ছ্বসিত তিনি।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও সাইফ বড় করে দেখছেন বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে। তিনি মনে করেন, এটি দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।
সাইফ বলেন, “ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান দলের দিকে তাকালে দেখবেন, তাদের প্রায় সব খেলোয়াড়ই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত। আমাদেরও বেশ কিছু খেলোয়াড় এখন নিয়মিত হচ্ছে। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও যোগ করেন, তাসকিন আহমেদ এই টুর্নামেন্টে খেলছেন, রিশাদ হোসেন বিগ ব্যাশে দল পেয়েছেন—এগুলো বিদেশের মাটিতে (Away Series) খেলার সময় ক্রিকেটারদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। প্রসঙ্গত, এই টুর্নামেন্টে দল পেলেও ঢাকা টেস্টের জন্য এনওসি পাননি তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
নিজেকে গড়ার কারিগর অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত দীর্ঘ সফরে অনেক কোচের সান্নিধ্য পেয়েছেন সাইফ হাসান। বিভিন্ন সময়ে কোচদের দেখানো পথে নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়েছেন। তবে দিনের শেষে নিজেকে নিজের সেরা কোচ মনে করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
নিজের প্রক্রিয়া নিয়ে সাইফ বলেন, “আমি যেখানেই ছিলাম, চেষ্টা করেছি নিজেকে উন্নত করার। বিভিন্ন কোচের সঙ্গে কাজ করেছি। তবে আমি মনে করি, নিজের কোচ নিজে হওয়াটা খুব জরুরি।”
ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে বিদেশের মাটিতে এই নতুন চ্যালেঞ্জ সাইফের ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।