ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি
মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধির মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে পাঁচ দিনব্যাপী নৌ মহড়ার (Naval Exercise) ঘোষণা দিয়েছে। এই মহড়াকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার প্রতি একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা (Strategic Message) হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রণতরী মোতায়েন ও সৈন্য সমাবেশ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়ে স্থানীয় সময় রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড (USS Gerald R. Ford) উত্তর ক্যারিবীয় সাগরে পৌঁছাবে। সামরিক Escalation-এর অংশ হিসেবে এই রণতরীর সঙ্গে আরও ১৫ হাজার মার্কিন সেনা এবং ২ হাজার মেরিন যুক্ত হবে।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক হামলার (Military Intervention) কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে তিনি সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তিনি "মনে মনে সিদ্ধান্ত" নিয়েছেন—যা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকেই জোরালো করেছে।
মাদুরোর তীব্র প্রতিক্রিয়া: ওয়াশিংটন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে মার্কিন সামরিক মহড়ার ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। কারাকাসের পেতারে তাঁর সমর্থকদের সামনে বক্তৃতায় মাদুরো সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিংটন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, দ্বীপ রাষ্ট্র ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা তাদের জমি ও পানিসীমাকে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার জন্য উন্মুক্ত রাখবে কি না। তাঁর এই মন্তব্য Geopolitical Tension-কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পেন্টাগনের দাবি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন অবশ্য তাদের এই সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে নেওয়া আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা বলতে নারাজ। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ মূলত মাদকবাহী নৌকা আটকানোর জন্য নেওয়া হচ্ছে। এটি তাদের Anti-Drug Trafficking Operation-এর অংশ।
তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে সম্ভবত স্থল হামলার (Ground Attack) প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দিন দিন ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে, সামরিক হামলার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই Geopolitical Crisis-এ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে