• রাজনীতি
  • জনগণ ভোটের জন্য উন্মুখ: স্বৈরাচার ঠেকাতে স্বাধীন নির্বাচন ও বিচার বিভাগের গুরুত্বারোপ সালাহউদ্দিন আহমদের

জনগণ ভোটের জন্য উন্মুখ: স্বৈরাচার ঠেকাতে স্বাধীন নির্বাচন ও বিচার বিভাগের গুরুত্বারোপ সালাহউদ্দিন আহমদের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জনগণ ভোটের জন্য উন্মুখ: স্বৈরাচার ঠেকাতে স্বাধীন নির্বাচন ও বিচার বিভাগের গুরুত্বারোপ সালাহউদ্দিন আহমদের

ঢাবি সাদা দলের সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যের মন্তব্য—সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে জাতিসত্তার ক্ষতি, ‘জুলাই সনদের’ আইনি বৈধতা নেই; স্বৈরাচারের দোসরদের বহাল রেখে স্বাধীন বিচার বিভাগ সম্ভব নয়।

নির্বাচন প্রত্যাশা ও ফ্যাসিবাদমুক্ত জাতি গঠন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৫-১৬ বছর ধরে আন্দোলনের পর দেশের মানুষ এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের (Fair Election) জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে ঢাবি সাদা দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার রূপান্তর: একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, "শেষ পর্যন্ত সবাইকে জনগণের কাছে যেতে হবে নির্বাচনের জন্য।" এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি জাতি ও দেশ তৈরি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট (Fascist) ও স্বৈরাচারের (Autocrat) উত্থান না ঘটে। এর জন্য তিনি স্বাধীন বিচার বিভাগ (Independent Judiciary) এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (Independent Election Commission) গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "স্বৈরাচারের দোসরদের বহাল রেখে স্বাধীন বিচার বিভাগ সম্ভব নয়।"

‘জুলাই সনদ’ ও সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন

সালাহউদ্দিন আহমদ সদ্য জারি হওয়া বিভিন্ন আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "জাতীয় ঐকমত্যের (National Consensus) নামে অনৈক্য তৈরির চেষ্টা হয়েছে।" জাতীয় সার্বভৌমত্ব (National Sovereignty) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "জাতীয় সার্বভৌমত্বকে কখনো কোনো আদেশ দিয়ে তো বাধ্য করা যায় না। কারণ, দেশের সর্বোচ্চ সার্বভৌমত্ব হলো জাতীয় সংসদ (National Parliament)।"

জুলাই সনদের (July Charter) গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "জুলাই সনদে গণভোট নিয়ে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে মনে হয়, পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করা লোকেরও সেটি পড়তে অনেক সময় লাগবে।" দেশে জারি হওয়া আদেশের ভবিষ্যৎ ও সাংবিধানিক আইনি বৈধতা (Constitutional Legal Validity) নেই বলেও তিনি মনে করেন এবং এর উদ্দেশ্য হলো 'একটি লিগ্যাল কেওয়াজ' (Legal Chaos) তৈরি করা।

শিক্ষাব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

বিএনপির এই নেতা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতি (Economy), সমাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন (Cultural Aggression) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যদি কোনো দেশকে ধ্বংস করতে চাও তবে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস কর। গণহারে জিপিএ ফাইভ (GPA-5) দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "আমাদের দেশে এমন জাতি তৈরি করা হয়েছে যে, তারা রক্তে ও মাংসে বাংলাদেশি; কিন্তু চিন্তাভাবনায় ভারতীয়।" এই প্রবণতাকে তিনি 'খুব সূক্ষ্মভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বৃত্তায়ন' (Intellectual Malpractice) বলে অভিহিত করেন।

তিনি শেখ হাসিনার আমলে জোরপূর্বক গুম-খুনের (Enforced Disappearances and Extrajudicial Killings) মাধ্যমে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নীরব বুদ্ধিজীবীদেরও সমালোচনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতি গঠনের গুরুত্ব

সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের শিক্ষক সমাজকে জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাগলে বাংলাদেশ জাগে।" তিনি বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি প্রতিষ্ঠা না হতো, ইতিহাস বলে-৪৭ হতে দেরি হতো, যদি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ না হতো, তাহলে ৭১ হতে দেরি হতো। শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত সমাজ তৈরি হয়েছিল বলেই স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে।"

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসাবে জাতি গঠনে বিএনপির '৩১ দফা রূপরেখা' (31-Point Outline) একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ।

Tags: national election july charter dhaka university salahuddin ahmed sada dal independent election commission cultural aggression intellectual malpractice fascist