সাতক্ষীরায় জামায়াত নয়, ধানের শীষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ডাক
সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ আব্দুর রউফ বলেছেন, অতীতে জোটগত কারণে তাঁরা এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেননি। কিন্তু এবার সরাসরি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণের ভালোবাসা ও দলের ঐক্যের মাধ্যমে Jamaat-e-Islami (জামায়াত)-কে পরাজিত করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে চান যে, সাতক্ষীরা জামায়াতের নয়, বরং বিএনপির প্রতীক 'ধানের শীষ'-এর ঘাঁটি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও র্যালিতে তিনি এই ঘোষণা দেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত জোটের রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থানকে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব আরোপ করলেন।
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
আব্দুর রউফ তাঁর বক্তব্যে সাতক্ষীরার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ধানের শীষের বিজয়কে 'অত্যন্ত জরুরি' বলে উল্লেখ করেন। দলের অভ্যন্তরীণ ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এই আহ্বানটি ইঙ্গিত করে যে, সাতক্ষীরায় BNP-এর অভ্যন্তরে কিছু বিভেদ বিদ্যমান, যা জয় নিশ্চিত করতে হলে কাটিয়ে ওঠা জরুরি।
দলীয় ঐক্যের বার্তা
আলোচনা সভায় উপস্থিত অন্য বক্তারাও দলের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দেন। তাঁরা বলেন, "ধানের শীষ যার হাতে, আমরা আছি তার সঙ্গে। ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে।" এটি মূলত দলের নেতাকর্মীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যে, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় প্রতীকের জন্য কাজ করাই এখন মূল Priority।
জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য দেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ দাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ জাহান শিলাসহ জেলা যুবদল, কৃষক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভার শেষে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড সহকারে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং খুলনা রোড মোড়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।