• জাতীয়
  • সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩ ব্যক্তির শেয়ার ফ্রিজ: ৪ কোটি ৬৪ লাখ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ আদালতের

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩ ব্যক্তির শেয়ার ফ্রিজ: ৪ কোটি ৬৪ লাখ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ আদালতের

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩ ব্যক্তির শেয়ার ফ্রিজ: ৪ কোটি ৬৪ লাখ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ আদালতের

মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ সিআইডির: অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে মেঘনা ব্যাংকে প্রায় ৬০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার অভিযোগ

সাবেক মন্ত্রীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩ ব্যক্তির শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে মেঘনা ব্যাংক পিএলসিতে থাকা বিশাল সংখ্যক শেয়ার আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ (Share Freeze) করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। অবরুদ্ধ হওয়া মোট শেয়ারের সংখ্যা চার কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যে ৩ ব্যক্তির শেয়ার ফ্রিজ করা হলো

আদালতের আদেশে যাদের শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে, তারা হলেন—

১. ইমরান জামান চৌধুরী (মেঘনা ব্যাংক পিএলসির সাবেক পরিচালক) ২. উৎপল পাল (স্টিডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ৩. নাসিম উদ্দিন মোহাম্মদ আদিল (স্টিরডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের পরিচালক)

মানিলন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ

আদালত সূত্র এবং মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (Criminal Investigation Department)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের উপপরিদর্শক মো. নাফিজুর রহমান এই শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে তা বিদেশে প্রেরণ ও পুনরায় দেশে আনয়ন করেন। এই অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার জন্য তারা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মেঘনা ব্যাংক পিএলসিতে ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয় করেন। এটি একটি পরিকল্পিত Money Laundering (মানিলন্ডারিং) চক্রের ইঙ্গিত দেয়।

অবৈধ লেনদেনের পদ্ধতি

অনুসন্ধানে সিআইডি জানতে পারে যে, অভিযুক্ত মো. আবুল কাসেমের মাধ্যমে মোট ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৫১০ মার্কিন ডলার সিঙ্গাপুর ও দুবাই থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। এরপর সেই টাকা ক্যাশ চেকের মাধ্যমে ইমরান জামান চৌধুরী এবং স্টিডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড নামের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

জমাকৃত এই অর্থ দিয়ে মেঘনা ব্যাংক পিএলসিতে শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসিতে হিসাব খোলা হয় এবং মোট ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এটি অবৈধ অর্থকে দেশের Financial Market-এ বৈধ পথে নিয়ে আসার একটি কৌশল।

শেয়ার অবরুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা

সিআইডির আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেঘনা ব্যাংক পিএলসিতে এই তিন অভিযুক্তের নামে থাকা শেয়ার অবরুদ্ধ করা না হলে তারা সহজেই এই শেয়ারগুলো বিক্রি করে টাকা উত্তোলন করে তা বেহাত করার চেষ্টা করতে পারেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অভিযুক্তদের নামে থাকা এই Share গুলো মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪(১) ধারা মোতাবেক অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত এই ধরনের গুরুতর অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশক।

Tags: money laundering financial crime cid saifuzzaman chowdhury meghna bank share freeze court order illegal money bank director land minister