• জাতীয়
  • সংখ্যালঘুদের সহাবস্থান ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি: বোমা হামলার প্রতিবাদে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

সংখ্যালঘুদের সহাবস্থান ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি: বোমা হামলার প্রতিবাদে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
সংখ্যালঘুদের সহাবস্থান ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি: বোমা হামলার প্রতিবাদে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

‘ধর্মীয় স্বাধীনতা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু’: চার্চ ও স্কুলে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক, একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বোমা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তাঁরা বলেন, দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। তাঁরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান (Peaceful Coexistence) চাইলেও, তার জন্য সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (Law Enforcement Agencies), সামাজিক গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই মানববন্ধনটি ঢাকা মহানগর পালকীয় পরিষদ ও সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়। সম্প্রতি তেজগাঁওয়ের হলি রোজারি চার্চ, কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল এবং মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে বোমা হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ

কর্মসূচিতে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালের পাল পুরোহিত Father Albert Rozario বলেন, "আমরা অত্যন্ত দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কের মধ্যে আছি। চার্চগুলো মানুষদের আস্থা, শান্তি ও ভক্তির জায়গা— সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এটি শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, মানবাধিকার (Human Rights) ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতিও আক্রমণ।" তিনি অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি জানান।

নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনো আলোচনা নয়

বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের (BCA) সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, "আমরা জানান দিতে চাই যে, খ্রিস্টান সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ। নিরাপত্তার প্রশ্ন আর আলোচনার বিষয় হতে পারে না। সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে।" তিনি আরও বলেন, এই হামলা শুধু চার্চ নয়— "আমাদের পরিবার, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করেছে।"

বিসিএ-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক থিওফিল রোজারিও বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইলেও, সেটির জন্য সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামাজিক গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি এবং কাঠামোগত পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কাঠামোর দাবি

মানববন্ধন শেষে প্রকাশিত আহ্বানপত্রে বলা হয়, এটি একদিনের প্রতিবাদ নয়। ভবিষ্যতে যাতে কেউ ধর্মীয় আক্রমণের শিকার না হয়, সেজন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কাঠামো (Security Framework) গড়ে তোলা জরুরি। এতে সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা ও বৃহত্তর সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

এই কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর পালকীয় পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) এবং বিভিন্ন খ্রিস্টান সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী ঐক্যের বার্তা বহন করে।

Tags: law enforcement human rights christian community minority rights religious security bomb attack peaceful coexistence dhaka protest bca