প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদে ফিরলেন বহিষ্কৃত ১৪ নেতা
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পূর্বে বহিষ্কৃত হওয়া ১৪ নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক ঐক্য (Organizational Unity) জোরদার করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে (Notification) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বের নির্দেশ মোতাবেক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য এই ১৪ নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে নেতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ (Primary Membership) ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কারা ফিরলেন দলের পদে?
পদ ফিরে পাওয়া ১৪ নেতার প্রায় সবাই নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মহানগরের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা (Office Bearers) রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর:
মো. আতাউর রহমান মুকুল: মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক।
শওকত হাসেম শকু: মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য।
মো. গোলাম নবী মুরাদ: ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য।
গাজীপুর মহানগর ও অন্যান্য:
মো. ফারুক হোসেন খান: গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
আব্দুল আউয়াল সরকার: ৩৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।
মো. সেলিম হোসেন: ৫৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
নাছরিন আক্তার শিরিন: ৪৯-৫০-৫১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
হাছিনা মমতাজ: ৪৬-৪৭-৪৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
মো. সফিউদ্দিন আহমেদ: ৪৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান: ৫১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
কেয়া শারমীন: ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
মো. মনির হোসেন: ৫০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি।
জি এস মনির: গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ফিরোজা আক্তার: ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
সাংগঠনিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
সাধারণত স্থানীয় নির্বাচন (যেমন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন) চলাকালীন দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার অভিযোগে এই ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা (Organizational Action) নেওয়া হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিককালে, বিএনপি তার সাংগঠনিক কাঠামোকে (Organizational Structure) আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করে এবং সকল নেতা-কর্মীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চাইছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ে দলের শক্তি বৃদ্ধি এবং কর্মীদের মধ্যে নতুন করে "মোটিভেট (Motivate)" করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।