শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি. এম. আলমগীর কবির পিএইচডি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ 'পিএইচডি ফেলোশিপ' লাভ করেছেন। তাঁর এই অর্জন শিক্ষাঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তাঁকে এই সম্মাননা জানানো হয়। তিনি বর্তমানে শেকৃবির কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
তৃণমূল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী: এক ব্যতিক্রমী যাত্রা
বৃহত্তর যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের নিবাসী আলমগীর কবির। তিনি ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মৃত আবুল হোসেন ও মোছা: মোমেনা বেগম দম্পতির সপ্তম সন্তান। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, একই সঙ্গে ডানপিটে ও মিষ্টভাষী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি একদিকে যেমন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে এলাকায় সুনাম অর্জন করেছিলেন, তেমনি কৈশোর থেকেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
নিয়মিত মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রদলের মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের কারণে কখনো কখনো তাঁর ক্লাসের পাঠদান থেকে বিরত থাকতে হতো। এজন্য তৎকালীন ছাত্রদলের অনেক নেতা সর্বকনিষ্ঠ এই বালককে 'ক্ষুদে রাজনীতিবিদ' তকমা দিয়েছিলেন। কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি আবারও তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেকে ছাত্র রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন, একই সঙ্গে বজায় রাখেন পড়াশোনার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ। এই রাজনৈতিক ও একাডেমিক দ্বৈরথের মাঝেই মেধার জোরে তিনি আজ এই উচ্চতর গবেষণার স্বীকৃতি পেলেন।
সম্মাননা ও ফেলোশিপের আর্থিক কাঠামো
একটি বিস্তৃত ও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিটি বি. এম. আলমগীর কবিরকে এই ফেলোশিপের জন্য মনোনীত করেছে। এই সম্মাননা মূলত গবেষকদের উচ্চমানের গবেষণা কাজে উৎসাহিত করার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই ফেলোশিপের অধীনে গবেষক তাঁর পিএইচডি অধ্যয়নকালীন সময়ের জন্য মাসিক ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা করে ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির সময় তাঁকে এককালীন ৬০,০০০ টাকা বেঞ্চ ফি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য ভাতাও দেওয়া হবে। এই ফেলোশিপের মোট মেয়াদ ধরা হয়েছে ৩৬ মাস বা ছয় সেমিস্টার। এই আর্থিক সহায়তা একজন গবেষকের জন্য গবেষণায় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করে।
গবেষণা ও শর্তাবলী: দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার
ফেলোশিপের অর্থ ছাড় এবং চলমান রাখার জন্য গবেষককে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও একাডেমিক শর্তাবলী (compliance) কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো—গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয় থাকবে। এই প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁকে প্রতি ছয় মাস অন্তর তাঁর গবেষণা সুপারভাইজারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিটির কাছে কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সন্তোষজনক অগ্রগতি নিশ্চিত হলেই কেবল পরবর্তী কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে।
এছাড়া, এই ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে গবেষককে নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে পূর্ণকালীন ডেপুটেশন বা অধ্যয়ন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি আইনগত বন্ধকী চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে, যেখানে ফেলোশিপের শর্তাবলী ও গবেষণার পরে মূল সংস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবা প্রদানের অঙ্গীকার থাকবে।
'স্মার্ট কৃষি' ও প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতির ডাক
পিএইচডি ফেলোশিপ প্রাপ্তির বিষয়ে একান্ত আলাপকালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি. এম. আলমগীর কবির তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ফসলের নানা ক্ষয়-ক্ষতি হয় এবং কৃষকদের নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে 'স্মার্ট এগ্রিকালচার টেকনোলজি'র (Smart Agriculture Technology) মাধ্যমে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা করাই তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি আরও বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে রাজনীতি হবে মেধাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর (Technology Dependent)। সকল শিক্ষার্থীকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার দিকে এবং তথ্যনির্ভর পড়াশোনার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান রইল।