• জাতীয়
  • শীতের আমেজ মিললেও অধরা হাড়হিম করা ঠান্ডা, নভেম্বরেই কি দেশে হানা দেবে শৈত্যপ্রবাহ?

শীতের আমেজ মিললেও অধরা হাড়হিম করা ঠান্ডা, নভেম্বরেই কি দেশে হানা দেবে শৈত্যপ্রবাহ?

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
শীতের আমেজ মিললেও অধরা হাড়হিম করা ঠান্ডা, নভেম্বরেই কি দেশে হানা দেবে শৈত্যপ্রবাহ?

উত্তরে কিছুটা পারদ পতন হলেও চট্টগ্রাম পুড়ছে উষ্ণতায়, চলতি মাসে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে যা জানাল ওয়েদার অবজারভেশন টিম।

কার্তিক পেরিয়ে অগ্রহায়ণের শুরুতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। ভোরে ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু আর সন্ধ্যার পর হালকা কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। তবে পুরোদমে জাঁকিয়ে বসা শীত বা হাড়হিম করা ঠান্ডার অনুভূতি এখনো দেশবাসীর কাছে অধরা। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি আচরণে তাপমাত্রা বা ‘Temperature’ কখনো কমছে, আবার কখনো আচমকা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দিনের বেলার প্রখর রোদ শীতের অনুভূতিকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শক্তিশালী শৈত্যপ্রবাহ বা ‘Cold Wave’ আঘাত না হানা পর্যন্ত তাপমাত্রার বড় কোনো পতন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—কবে নাগাদ দেখা মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত শৈত্যপ্রবাহের?

নভেম্বরে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা কতটুকু?

বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (BWOT)-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নভেম্বরের অবশিষ্ট দিনগুলোতে দেশে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। সংস্থার ডাটা অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কিছু জায়গায় শীতের অনুভূতি কিছুটা বাড়লেও, এখনই বড় কোনো শৈত্যপ্রবাহের ‘Forecast’ বা পূর্বাভাস নেই।

বরং আবহাওয়ার এক অদ্ভুত আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীতের শুরুর এই সময়ে তাপমাত্রা ক্রমশ কমার কথা থাকলেও, উল্টো দেশের কোথাও কোথাও তা কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা ‘Temperature Rise’ স্বল্পস্থায়ী হলেও, চলতি মাসে হাড়কাঁপানো শীতের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

অঞ্চলভেদে তাপমাত্রার বৈষম্য: উষ্ণতার বৃত্তে চট্টগ্রাম

দেশের আবহাওয়ার মানচিত্রে এখন অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে যখন দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগ যেন আটকে আছে উষ্ণতার বৃত্তে। ওয়েদার অবজারভেশন টিমের তথ্যমতে, দেশের অন্যান্য স্থানে যখন শীতের আমেজ স্পষ্ট হচ্ছে, তখন চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে দিনের তাপমাত্রা এখনো ৩০ ডিগ্রি থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করছে। এমনকি রাতের তাপমাত্রাও সেখানে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না, যা শীতের স্বাভাবিক চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উত্তরের জনপদ বনাম দক্ষিণের উপকূল

তাপমাত্রার এই তারতম্য দেশের উত্তর ও দক্ষিণের জনজীবনেও প্রভাব ফেলছে। উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোঠায় নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে দক্ষিণের উপকূলীয় জেলাগুলোতে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের টেকনাফসহ দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, দেশের এক প্রান্তে যখন শীতবস্ত্রের প্রয়োজন পড়ছে, অন্য প্রান্তে তখন ফ্যানের বাতাসও অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া ও নাগরিক জীবন

জনবহুল রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া নিয়েও সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছে বিডব্লিউওটি (BWOT)। যান্ত্রিক এই নগরে নভেম্বরের বাকি দিনগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ঢাকায় এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই। বরং ‘এই শীত, এই গরম’—এমন একটি মিশ্র আবহাওয়া বা ‘Mixed Weather Pattern’ আপাতত চলমান থাকবে। পরিপূর্ণ শীত উপভোগ করতে হলে নগরবাসীকে একটি শক্তিশালী শৈত্যপ্রবাহ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মূলত, প্রকৃতিতে শীতের প্রকৃত রূপ তখনই ধরা দেবে, যখন বাতাসের আর্দ্রতা কমবে এবং উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়ার প্রবাহ আরও জোরালো হবে।

Tags: temperature drop bangladesh weather cold wave weather update winter forecast dhaka weather climate news