কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার জন্য ছুটির গুরুত্ব অপরিসীম। আর সেই ছুটি যদি হয় সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সংযুক্ত, তবে তো সোনায় সোহাগা। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০২৬ সাল ঠিক এমনই একগুচ্ছ দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ নিয়ে আসছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন বছরে বেশ কয়েকটি মাসে মাত্র এক বা দুই দিনের ছুটি নিলেই পাওয়া যাবে টানা চার থেকে দশ দিনের অবসর।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি ১৪ দিন, অর্থাৎ মোট ছুটি ২৮ দিন। তবে এর মধ্যে নয়টি ছুটি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে। ফলে ভ্রমণপিপাসু বা পরিবারকে লম্বা সময় দিতে চাওয়া মানুষের জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা অত্যন্ত জরুরি। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক কীভাবে আপনার ২০২৬ সালের ছুটির পরিকল্পনা সাজাতে পারেন।
ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম সুযোগ
বছরের দ্বিতীয় মাসেই আসছে প্রথম লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ছুটি থাকবে। এর পরদিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক দিনের ছুটি নিতে পারলেই পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবারের (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পাওয়া যাবে টানা চার দিনের অবকাশ।
মার্চে ৭ দিনের ছুটির হাতছানি
মার্চ মাস দুটি বড় সুযোগ নিয়ে আসছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। ঈদ উপলক্ষে সরকারিভাবে পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। এর আগে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) রয়েছে পবিত্র শবে কদরের ছুটি। মাঝখানে শুধু বুধবার (১৮ মার্চ) কর্মদিবস। এদিন ছুটি সমন্বয় করতে পারলেই ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করা যাবে, যা যেকোনো দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট।
এছাড়া, ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) স্বাধীনতা দিবসের ছুটির পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানে কোনো ছুটি না নিলেও টানা তিন দিনের বিশ্রাম মিলবে। আর বুধবার (২৫ মার্চ) বা রবিবার (২৯ মার্চ) এক দিন ছুটি নিলে এই অবকাশ বেড়ে দাঁড়াবে চার দিনে।
এপ্রিলে বৈশাখী আমেজ
বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে এপ্রিলে একটি পাঁচ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ রয়েছে। ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পহেলা বৈশাখের ছুটি। এর আগে ১০ ও ১১ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার। মাঝখানের দুই দিন, অর্থাৎ ১২ ও ১৩ এপ্রিল (রবি ও সোমবার) ছুটি নিতে পারলে ১০ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটানো সম্ভব হবে।
মে মাসে ঈদের দীর্ঘতম ছুটি
২০২৬ সালের দীর্ঘতম ছুটি কাটানোর সুযোগ আসতে পারে মে মাসে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। ঈদ উপলক্ষে মোট ছয় দিনের ছুটি থাকবে (ঈদের আগের দুই দিন, ঈদের দিন এবং পরের তিন দিন)। এর ঠিক আগেই ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। কোনোভাবে যদি মাঝখানের দুই দিন, অর্থাৎ ২৪ ও ২৫ মে (রবি ও সোমবার) ছুটি ম্যানেজ করা যায়, তাহলে ২২ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা দশ দিনের এক দুর্দান্ত অবকাশ মিলবে।
আগস্টে জোড়া সুযোগ
আগস্ট মাসেও থাকছে দুবার লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ, তবে দুবারই একদিন করে ছুটি নিতে হবে। ৫ আগস্ট (বুধবার) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নতুন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ছুটি নিলে ৭ ও ৮ আগস্টের সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট চার দিনের জন্য ঘোরার পরিকল্পনা করা যাবে।
একইভাবে, ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ছুটি থাকবে। এক্ষেত্রেও পরদিন বৃহস্পতিবার ছুটি সমন্বয় করলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট চার দিনের অবসর মিলবে।
অক্টোবরে পূজার আনন্দ
শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে অক্টোবরেও লম্বা ছুটির সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুর্গাপূজার নবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি থাকবে। এরপর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক দিনের ছুটি নিতে পারলেই ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের জন্য পূজার আনন্দে সামিল হওয়া বা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের ছুটি
বছরের শেষ মাসটিও নিরাশ করবে না। ১৬ ডিসেম্বর (বুধবার) মহান বিজয় দিবসের ছুটি। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) এক দিনের ছুটি নিতে পারলে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বরের সাপ্তাহিক ছুটিসহ পাওয়া যাবে টানা চার দিনের ছুটি। এই সুযোগে শীতের আমেজে বছর শেষের ভ্রমণটা সেরে ফেলাই যায়।
সুতরাং, আগে থেকে পরিকল্পনা করলে এবং ছুটির সঠিক সমন্বয় ঘটালে ২০২৬ সালটি কর্মজীবীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ভ্রমণ ও বিশ্রামের বছর হয়ে উঠতে পারে।