আগামীকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) পালিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল দিন—সশস্ত্র বাহিনী দিবস বা Armed Forces Day। জাতীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিতে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা বা Health Condition অনুকূলে থাকলে আগামীকাল বিকেলে তিনি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে সেনাকুঞ্জের উদ্দেশে রওনা হতে পারেন।
দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এই সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা বা Security Advisor, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর।
শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ
বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে তার তৎকালীন শারীরিক পরিস্থিতির ওপর। এ প্রসঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর জানান, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতা অনুভব করছেন। তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে সার্বক্ষণিক Close Observation-এ রেখেছেন। তবে শুক্রবার সকাল নাগাদ তার শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হলে বা তিনি Fit বোধ করলে, এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ‘পরিকল্পনা’ বা Plan রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর গমন পথের নিরাপত্তা এবং প্রটোকল সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই পর্যালোচনা করা হয়েছে। গুলশানের বাসভবনেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।
অতীতের নজির ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এর একটি গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর (২০২৪) সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ বিরতির পর যোগ দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেটি ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত।
গত বছরের সেই অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছালে তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। সে সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাকে স্বাগত জানান। তিন বাহিনীর প্রধানদের এই সৌজন্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সেদিন জাতীয় রাজনীতিতে একটি ‘ইতিবাচক বার্তা’ বা Positive Signal হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
প্রস্তুত সেনাকুঞ্জ
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও সেনাকুঞ্জকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের মিলনমেলায় পরিণত হবে এই Grand Reception। বিএনপি চেয়ারপারসন শেষ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিলে তা হবে দিবসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এখন সবার দৃষ্টি আগামীকাল গুলশানের ‘ফিরোজা’ এবং চিকিৎসকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।