• রাজনীতি
  • বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে টার্মিনাল চুক্তি: সরকারের ‘তড়িঘড়ি’ সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে টার্মিনাল চুক্তি: সরকারের ‘তড়িঘড়ি’ সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে টার্মিনাল চুক্তি: সরকারের ‘তড়িঘড়ি’ সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদী লিজ নিয়ে সাইফুল হকের ক্ষোভ; ‘গোপন শর্ত’ ও জি-টু-জি পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দিহান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

চট্টগ্রামের লালদিয়া এবং কেরানীগঞ্জের পানগাঁওতে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ ও ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত অস্বাভাবিক দ্রুততায় এবং গোপনীয়তার সঙ্গে এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা রাষ্ট্রের National Security এবং জনস্বার্থের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ এই চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

অস্বাভাবিক দ্রুততা ও গোপনীয়তার সংস্কৃতি

সমাবেশে সাইফুল হক বলেন, রাষ্ট্র যখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা Competitive Bidding ছাড়াই জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে এই চুক্তি করা হয়েছে। কেন এবং কার স্বার্থে শর্তগুলো গোপন রাখা হলো—তা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ৩০ বছর এবং ২২ বছর মেয়াদী এই দুটি Lease Agreement স্বাক্ষর করা হয়েছে। যে সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস এবং যার চরিত্র অন্তর্বর্তীকালীন, প্রবল জনরোষ ও বিতর্ক উপেক্ষা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তুলে দিতে তাদের এত তাড়াহুড়া কেন? এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা Hidden Agenda নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’’

জাতীয় নিরাপত্তা ও ‘আদানি সিনড্রোম’-এর শঙ্কা

বন্দরের মতো কৌশলগত বা Strategic স্থাপনা বিদেশিদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে সাইফুল হক বলেন, এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘অতীতে জনমত উপেক্ষা করে ভারতীয় আদানি গ্রুপের সঙ্গে অসম ও অন্যায় চুক্তি করা হয়েছিল, যার চড়া মাশুল বা Heavy Price এখনো বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে। বিস্ময়করভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও যেন সেই স্বৈরাচারী পথেই হাঁটছে। বিদেশিদের তুষ্ট করতে জাতীয় সক্ষমতাকে বিসর্জন দেওয়ার এই নীতি কোনো দেশপ্রেমিক সরকার গ্রহণ করতে পারে না।’’

অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার ও দাবি

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। তিনি অবিলম্বে এই চুক্তিকে ‘দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

সাইফুল হক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের নিজস্ব National Capacity বা জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিন। অতীতে স্বাক্ষরিত সকল কালো চুক্তি পর্যালোচনা না করে নতুন কোনো বিতর্কিত চুক্তিতে জড়াবেন না।’’

রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘‘সরকারকে যা খুশি তাই করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে এই চুক্তি বাতিলে অচিরেই বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’’

সমাবেশে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা পার্ট ইসলাম, এমডি ফিরোজ, বাবর চৌধুরী ও যুবরান আলী জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল তোপখানা রোড, বিজয়নগর ও সেগুনবাগিচা প্রদক্ষিণ করে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

Tags: interim government bangladesh politics national security chittagong port pangaon terminal terminal contract saiful haque revolutionary workers party