পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজিত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে অসাধারণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা শ্রীলঙ্কাকে ৬৭ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিল। বোলারদের সম্মিলিত দাপটে শক্তিশালী লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ৯৫ রানেই গুটিয়ে দেয় সিকান্দার রাজার দল। এই জয়ে সিরিজের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হলো তাদের।
ইভান্স-এনগ্রাভার তোপে উড়ে গেল লঙ্কান ব্যাটিং রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের পেসারদের নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি লঙ্কান ব্যাটাররা। দলের খাতায় মাত্র ৬ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন পাথুম নিসাঙ্কা (০) ও কুশল পেরেরা (৪)।
ওপেনার কুশল মেন্ডিস (৬) রান আউটের শিকার হলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। দলীয় ২৯ রানে ভানুকা রাজাপাকসেকে (১১) বোল্ড করে লঙ্কান শিবিরে সবচেয়ে বড় আঘাত হানেন পেসার ব্র্যাড ইভান্স। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। একা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক দাসুন শানাকা। তবে রায়ান বার্লের শিকার হওয়ার আগে ২৫ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ রান করে তিনিও বিদায় নেন। শানাকা ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি, যা লঙ্কানদের ব্যাটিং ব্যর্থতার করুণ চিত্র তুলে ধরে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারের আগেই ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
জিম্বাবুয়ের হয়ে মাত্র ৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স। এছাড়া রিচার্ড এনগ্রাভা ১৫ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট শিকার করেন।
রাজা ও বেনেটের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়েও খুব স্বস্তিতে ছিল না। তবে ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তারা একটি সম্মানজনক সংগ্রহ গড়ে। দুজনেই অল্পের জন্য অর্ধশতক হাতছাড়া করেন। বেনেট ৪২ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৯ রান করে আউট হন। অন্যদিকে, অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ৩২ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৭ রানের এক মূল্যবান ইনিংস খেলেন। এই দুজনের ব্যাটে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রানের লড়াকু পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে তারকা লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৩২ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া ইশান মালিঙ্গা পেয়েছেন ২টি উইকেট।
সিরিজে জিম্বাবুয়ের ঘুরে দাঁড়ানো
এই ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও ৫ উইকেটে হেরেছিল জিম্বাবুয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই এমন দাপুটে জয়ে তারা সিরিজে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটাল। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এমন বড় ব্যবধানে হেরে বেশ চাপে পড়ল শ্রীলঙ্কা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই দলের ১০ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে এটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের তৃতীয় জয়।