প্রায় দুই মাসের আপাত শান্ত পরিস্থিতিতে ফের ছেদ পড়ল। আবারও তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল হিমালয়ের দেশ নেপাল। রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা গণবিক্ষোভের রূপ নেওয়ায় দেশের বারা জেলায় কার্ফু জারি করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনা দু'মাস আগের সেই দেশ কাঁপানো ‘GenZ’ আন্দোলনের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত রাজনৈতিক সংঘর্ষে
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অশান্তির সূত্রপাত হয় বুধবার। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল CPN-UML-এর সমর্থকরা বারা জেলার সীমারায় একটি মিছিল বের করে। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন দলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এক বৃহত্তর আকার ধারণ করে।
পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি কিছু বিক্ষোভকারীর মুখে সরকার বদলের স্লোগানও শোনা যায়। বুধবারের এই ঘটনাই বৃহস্পতিবারের গণবিক্ষোভের মঞ্চ প্রস্তুত করে দেয়।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিক্ষোভের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। তরুণ বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। ইতিমধ্যেই হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে দুজন তরুণ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে বারা জেলার জেলাশাসকের দফতর থেকে কার্ফু জারির ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত এই কার্ফু বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সরকার। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল (প্রচণ্ড) বিক্ষোভকারীদের শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক উস্কানিতে পা না দেওয়ার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং নিরাপত্তাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।’
ফিরে এল পুরোনো স্মৃতি
মাত্র দু'মাস আগেই নেপালের তরুণ প্রজন্মের এক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময় শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে নেপালের সেই ‘GenZ’ বিক্ষোভের তুলনা টানা হয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, বারা জেলার এই নতুন ঘটনা প্রমাণ করল যে ক্ষোভের আগুন এখনও পুরোপুরি নেভেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা যে কোনো মুহূর্তে নেপালকে আবারও উত্তাল করে তুলতে পারে, এই ঘটনাই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।