ফুটবলে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল সিঙ্গাপুর। দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা জায়গা করে নিল এশিয়ান কাপ ফুটবলের মূল পর্বে। ২০২৭ সালের আসরের বাছাইপর্বে হংকং কে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে পরাজিত করে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে দলটি। ১৯৮৪ সালে স্বাগতিক হিসেবে খেললেও, এবারই প্রথম যোগ্যতার নিরিখে এশীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে পা রাখল তারা।
নাটকীয় জয়ে লেখা হলো ইতিহাস
বাংলাদেশ, ভারত ও হংকংয়ের সাথে ‘Group C’-তে থাকা সিঙ্গাপুরের জন্য ম্যাচটি ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার হংকংয়ের কাই তাক স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই এভারটন ক্যামারগোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক হংকং। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সিঙ্গাপুর।
ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা ইলহান ফান্দি গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শাওয়াল আনোয়ারের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর এবং এই লিড তারা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ৪০ বছরের প্রতীক্ষার অবসানের আনন্দে ফেটে পড়ে সিঙ্গাপুরের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা।
গ্রুপ সেরার অঙ্ক যখন হাতের মুঠোয়
এই জয়ের ফলে বাছাইপর্বে নিজেদের অবস্থানকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে সিঙ্গাপুর। এখন পর্যন্ত খেলা পাঁচ ম্যাচে তিনটি জয় ও দুটি ড্রয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা ‘Group C’-এর শীর্ষে রয়েছে। ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে হংকং এবং ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ।
আগামী বছরের মার্চে বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে এবং ভারত খেলবে হংকংয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে যদি সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের কাছে হেরেও যায় এবং হংকং ভারতকে হারায়, তাহলেও সিঙ্গাপুরের গ্রুপ সেরা হওয়া আটকাবে না। কারণ, হংকংয়ের পয়েন্ট ১১ হলেও ‘Head-to-Head’ এবং গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে সিঙ্গাপুরই। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই মূল পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের।
উৎসবে মাতোয়ারা সিঙ্গাপুর, মিললো বিরাট পুরস্কার
এই ঐতিহাসিক অর্জনে গোটা সিঙ্গাপুরে এখন উৎসবের আমেজ। ফুটবলারদের এই সাফল্যের স্বীকৃতি দিতেও দেরি করেনি দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি ফরেস্ট লিও দলের জন্য ২ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, "দলটি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। দেশের গর্ব বাড়ানো প্রতিটি ফুটবলার এই পুরস্কারের যোগ্য।"
গতকাল বিজয়ী বেশে দেশে ফেরে সিঙ্গাপুর ফুটবল দল। বিমানবন্দরে তাদের বরণ করে নিতে হাজির হয় হাজার হাজার সমর্থক। ভক্তদের এমন ভালোবাসায় আপ্লুত অধিনায়ক হারিস হারুন বলেন, "ভালো-খারাপ সব সময়ে আপনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এবার আমাদের কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।" বিমানবন্দরেই গতকাল ৩৫ বছরে পা দেওয়া অধিনায়কের জন্মদিনও পালন করেন ভক্তরা। সমস্বরে জন্মদিনের গান গেয়ে তারা নিজেদের নায়ককে অভিবাদন জানান।