• দেশজুড়ে
  • ‘জনমনে শঙ্কা রেখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব’: খুলনায় ড. দেবপ্রিয়র সতর্কবার্তা

‘জনমনে শঙ্কা রেখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব’: খুলনায় ড. দেবপ্রিয়র সতর্কবার্তা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
‘জনমনে শঙ্কা রেখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব’: খুলনায় ড. দেবপ্রিয়র সতর্কবার্তা

‘সঠিক সংস্কার বেঠিক পদ্ধতিতে হলে সুফল মেলে না’; পদ্মা সেতুর সুফল ও বিনিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে সিপিডি আহ্বায়কের তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ

দেশের রাজনৈতিক দিগন্তে নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করলেও সাধারণ নাগরিকদের মন থেকে এখনো শঙ্কা ও ভীতির কালো ছায়া পুরোপুরি কাটেনি। আর এই ভীতি দূর করে জনগণের আস্থা ফেরাতে না পারলে একটি গ্রহণযোগ্য বা Participatory Election (অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন) অনুষ্ঠান কিছুতেই সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) খুলনায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফ ফেলো ও আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নাগরিক ইশতেহার’ শীর্ষক এই প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক কর্মশালায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চালচিত্রের এক গভীর ব্যবচ্ছেদ করেন।

নির্বাচনমুখিতা বনাম আস্থার সংকট

খুলনার অভিজাত হোটেল সিটি ইন-এ অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ড. দেবপ্রিয় বলেন, দেশ ক্রমে নির্বাচনমুখী হয়ে উঠছে এবং নির্বাচন এখন অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা। কিন্তু মূল প্রশ্নটি হলো—আমরা কেমন নির্বাচন পেতে যাচ্ছি? তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘জনগণ যদি আস্থা না পায়, তবে কোনো নির্বাচনই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপ পায় না। এখনো নাগরিকদের মনে যে Fear Factor বা শঙ্কা কাজ করছে, তা দূর করা অপরিহার্য। মুক্ত আলোচনা, স্বচ্ছতা ও সততার ভিত্তিতেই এই হারানো Public Trust বা জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।’’

পদ্মা সেতুর সুফল ও আঞ্চলিক অর্থনীতির ধাঁধাঁ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. দেবপ্রিয় এক গভীর পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই অঞ্চলে যে ধরনের Economic Boom বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।

তার বিশ্লেষণে উঠে আসে এক মিশ্র চিত্র—পদ্মা সেতুর প্রভাবে জমির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান বাড়েনি বা শ্রমিকদের Fair Wage (ন্যায্য মজুরি) নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘নতুন প্রজন্মের শ্রমিকদের আকৃষ্ট করতে হলে খুলনায় অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পিত শিল্পায়ন বা Regional Industrialization জরুরি। এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প, চিংড়ি ও মৎস্য উৎপাদন এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক Eco-tourism বা পর্যটন শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো অব্যবহৃত।’’

সংস্কার ও বিনিয়োগ: স্বচ্ছতার আল্টিমেটাম

রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রশ্নে ড. দেবপ্রিয় সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৌশলী সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, সংস্কার প্রয়োজন এবং তার জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগও বা Foreign Investment জরুরি। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াটি হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত।

বন্দরের সাম্প্রতিক সংস্কার ও চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘সঠিক সংস্কারও যদি ‘বেঠিক পদ্ধতিতে’ করা হয়, তবে তার সুফল কখনোই পাওয়া যায় না। বন্দর সংস্কারে যে অস্বাভাবিক দ্রুততা ও গোপনীয়তা বা Lack of Transparency দেখা গেছে, তাতে ভালো উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ও জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করার ঝুঁকি থাকে। যেকোনো সংস্কার হতে হবে টেকসই বা Sustainable, যা কেবল স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।’’

রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের মিলনমেলা

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় নগরীর বিভিন্ন স্তরের দুই শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন, যেখানে উঠে আসে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নানা দাবি-দাওয়া। সভায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন এবং এনসিপির ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

Tags: political reform bangladesh politics debapriya bhattacharya cpd bangladesh participatory election khulna economy citizen platform padma bridge