• দেশজুড়ে
  • মাটি খুঁড়তেই উঠে এল গ্রেনেড; কৌতূহলে বাড়িতে নিলেন কৃষক, অতঃপর...

মাটি খুঁড়তেই উঠে এল গ্রেনেড; কৌতূহলে বাড়িতে নিলেন কৃষক, অতঃপর...

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মাটি খুঁড়তেই উঠে এল গ্রেনেড; কৌতূহলে বাড়িতে নিলেন কৃষক, অতঃপর...

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক উদ্ধার; নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয়রা। নিছক সেচের নালা তৈরির জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে উঠে এল যুদ্ধের স্মৃতিবাহী এক ভয়ঙ্কর ধাতব বস্তু। সত্তরোর্ধ্ব এক কৃষক তার জমিতে কাজ করার সময় একটি অবিস্ফোরিত ‘গ্রেনেড’ বা Grenade উদ্ধার করেছেন। বিস্ময়করভাবে, বিস্ফোরকটির ভয়াবহতা আঁচ করতে না পেরে তিনি সেটি হাতে করেই নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড় কমলাবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয়।

মাটির নিচে সুপ্ত বিপদ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ কৃষক আব্দুল আজিজ দুপুরে নিজের জমিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন বা Drainage Channel খনন করছিলেন। কোদালের কোপে মাটি সরাতেই তার নজরে আসে গোলাকার ও ভারী এক ধাতব বস্তু। হাতে নিয়ে ধুলোবালি ঝাড়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ কোনো লোহার টুকরো নয়, বরং একটি গ্রেনেড।

বাড়িতে গ্রেনেড: কৌতূহল ও আতঙ্ক

অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকটি বা Live Explosive যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে—এমন Safety Risk থাকা সত্ত্বেও আব্দুল আজিজ সেটিকে বাড়িতে নিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আদিতমারী থানা পুলিশ। তারা ভিড় সরিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

উদ্ধারকৃত গ্রেনেডটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষক আব্দুল আজিজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘১৯৭১ সালে আমাদের বাড়ির পাশেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্প করেছিলেন। তখন তাদের হাতে আমি অবিকল এমন গ্রেনেড দেখেছি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বা Occupation Forces-এর গতিরোধ করতে তারা বিভিন্ন কালভার্ট ও সেতুতে এগুলো ব্যবহার করতেন। সম্ভবত এটি সেই সময়েরই কোনো অবিস্ফোরিত বা ফেলে যাওয়া গ্রেনেড।’’

পুলিশের ভাষ্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আকবর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘‘প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে গ্রেনেডটি বহু বছরের পুরনো এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের। এটি এতদিন মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় বা Abandoned Condition-এ ছিল। বর্তমানে এটি থানায় নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।’’

তিনি আরও জানান, গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় বা Dispose করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী Bomb Disposal Unit-এর সহায়তা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

Tags: bangladesh history lalmonirhat news aditmari grenade found liberation war explosive device police raid