• রাজনীতি
  • ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে, রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না’: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে, রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না’: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে, রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না’: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সমাবেশে ঢাকা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর বিস্ফোরক মন্তব্য; মির্জা ফখরুল বললেন, ছাত্র-জনতার তৈরি পরিবর্তন কাজে লাগাতে হবে।

ঢাকা-৬ আসনের সাবেক ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বিস্ফোরক মন্তব্য করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশে রাজনীতি (Politics) করার সুযোগ দেওয়া হবে না এবং তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ (Banned) করা হবে। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের এক সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

'কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হবে': আওয়ামী লীগকে ইশরাকের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

সমাবেশের মঞ্চ থেকে ইশরাক হোসেন সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'গুপ্ত সন্ত্রাসীদের' ব্যবহার করে নির্বাচন (Election) প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন, "বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হবে।" তাঁর এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক

দলের অভ্যন্তরে বিরাজমান বিভেদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন তা অবিলম্বে দূর করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ বিভেদ চলমান আন্দোলনকে দুর্বল করে দিতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "জুলাই আন্দোলনের সব দল ঐক্যবদ্ধ না থাকলে বহিঃশত্রুরা দেশকে একটি করদ রাষ্ট্রে (Vassal State) পরিণত করতে পারে।" দেশের সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) ও স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা।

গণতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংস: মির্জা ফখরুলের কড়া সমালোচনা

এদিকে, শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীতে অন্য একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশে গণতন্ত্র (Democracy) প্রতিষ্ঠিত থাকলে সকলের অধিকার নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা যে পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

'দানবীয় সরকার' ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো

দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ধ্বংস করার জন্য তিনি পূর্ববর্তী সরকারকে অভিযুক্ত করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, "একটি ভয়াবহ দানবীয় সরকার ছিল। নিজের লোক, দলের লোক বসাতে গিয়ে তারা সব প্রতিষ্ঠান (Institution) ধ্বংস করে দিয়েছে।" তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপির পক্ষ থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values) কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয় ও জামায়াত-সমালোচনা

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তৃতায় দেশজুড়ে অনৈতিকতা, চুরি ও দুর্নীতির ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "এত মুসলমানের দেশ, এত মাদ্রাসা, মসজিদ, এত ইমাম, উলামা, বিদ্বান পণ্ডিতরা থাকা সত্ত্বেও দেশে এত অন্যায় কেন? এত পাপ কেন? কেন মানুষ এত চুরি করে? এত দুর্নীতি করে? আমি বুঝতে পারি না।" তিনি আরও বলেন, একটি মসজিদ তৈরির ব্যাপারে মানুষের যে আগ্রহ, সেই আগ্রহ ভালো মানুষ তৈরির ক্ষেত্রে কোথায় যায়?

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ১০ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী (Anti-Fascism) দৃশ্যমান কিছু করেনি জামায়াত। এতদিন পিআর (PR-Public Relations)-এর কথা বলে এখন তারা সুর নরম করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা (Political Favour) নেওয়ার বিষয়টি ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না।

Tags: election jamaat awami league mirza fakhrul democracy fascism ishraque hossain politics ban vassal state institutional crisis