চাঁদপুরের কচুয়ায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ছেলে মো. হোসাইন (৩০) মানসিক প্রতিবন্ধী (Mentally Challenged) ছিলেন। ঘটনার পরপরই গ্রামের মানুষের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের বাইছারা নোয়াপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
গাছের চারা রোপণ নিয়ে বিরোধের জের
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (Officer in Charge - OC) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "বিকেলে বাড়ির উঠানে একটি গাছের চারা রোপণ করাকে কেন্দ্র করে বাবা আব্দুল খালেক (৬৫) এবং ছেলে মো. হোসাইনের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছেলে মো. হোসাইনের হাতে থাকা ধারালো দায়ের কোপে ঘটনাস্থলেই বাবা আব্দুল খালেক মারা যান।"
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে গ্রামের মানুষজন তাৎক্ষণিকভাবে একত্রিত হয়ে ঘাতক মো. হোসাইনকে আটক করে। পরে গ্রামবাসী তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (ASP) আব্দুল খালেক চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার উপস্থিতিতেই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের (Post-Mortem) জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবারের দাবি: অভিযুক্তের মানসিক সমস্যা
নিহতের বড় ছেলে মো. নোমান জানান, তার ভাই মো. হোসাইন একসময় মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে প্রায় দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু একপর্যায়ে মো. হোসাইনের মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। নোমান আরও দাবি করেন, "গত কিছুদিন আগেও আমরা ভাইকে মানসিক রোগের চিকিৎসক দেখিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।"
ঘটনাটি পারিবারিক Conflict এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে সমাজের নজর ফেরানোর প্রয়োজনীয়তাকে আবার সামনে এনেছে। শনিবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কচুয়া থানায় কোনো Formal মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনার Detailed Investigation শুরু করেছে।