• রাজনীতি
  • জনমনে প্রশ্ন: জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে তো? অনিশ্চয়তা ঘিরে নানা দাবি-দাওয়ার চাপ বাড়াচ্ছে বিএনপি

জনমনে প্রশ্ন: জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে তো? অনিশ্চয়তা ঘিরে নানা দাবি-দাওয়ার চাপ বাড়াচ্ছে বিএনপি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জনমনে প্রশ্ন: জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে তো? অনিশ্চয়তা ঘিরে নানা দাবি-দাওয়ার চাপ বাড়াচ্ছে বিএনপি

'সরকার থেকে সুবিধাভোগীরা পদ ছাড়তে রাজি নন', মন্তব্য করে নির্বাচন নিয়ে মানুষের সংশয়ের কথা জানালেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন (National Assembly Election) অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ জনগণের মনে এখন গভীর প্রশ্ন ও সংশয় দানা বেঁধেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে একটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা মাঠে একটি জনসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য দেন।

ভয়-ভীতির পরিবেশ ও দাবির রাজনীতি

নির্বাচন ঘিরে জনমনে যে ভয়-ভীতি ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বর্তমান Law and Order Situation (আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি)-এর দুর্বলতা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন বিভিন্ন ধরনের 'দাবি-দাওয়া' সামনে নিয়ে আসছে, যা নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, "বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের ভিন্ন ভিন্ন দাবি নিয়ে আসছে। কেউ বলছেন— নিম্নকক্ষে Proportional Representation (PR) পদ্ধতি না আসলে তাঁরা নির্বাচনে যাবেন না। আবার কেউ বলছেন— নির্বাচনের আগে জাতীয় গণভোট না হলে তাঁরা নির্বাচন করবেন না। অন্যদিকে, অন্য একটি দল দাবি জানাচ্ছে যে জাতীয় পার্টিসহ ১৪-দলীয় জোটকে নিষিদ্ধ না করা হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না।"

এভাবে একের পর এক শর্ত ও দাবি সামনে আসায়, সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি একটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করেন বিএনপির এই নেত্রী।

সুবিধাভোগীদের ক্ষমতা ছাড়ার অনীহা

নির্বাচন নিয়ে জনগণের মনে কেন এত সংশয়, সেই কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও একশ্রেণির সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর ক্ষমতা ছাড়ার অনীহার দিকে ইঙ্গিত করেন।

তিনি বলেন, "স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও সরকারে না থেকেও যারা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করছেন, তাদের অনেকেই সেই State Benefit (রাষ্ট্রীয় সুবিধা) ছাড়তে কোনোভাবেই প্রস্তুত নন। আর এই মনোভাবই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে— জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি কি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে?"

রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপির ৩১ দফা

এই জনসভাটির আয়োজন করা হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে। পানিস্বর ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য দেন পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুস্তাফা মেম্বার এবং আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মুন্সি-সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে, বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি সুদূরপ্রসারী ও বিস্তারিত Action Plan (কর্মপরিকল্পনা) প্রস্তুত রয়েছে।

Tags: national election protest bnp bangladesh politics proportional representation tarque rahman rumina farhana law order situation political uncertainty demand