• রাজনীতি
  • বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ মার্চের সফর স্থগিত, পিছিয়ে গেল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ মার্চের সফর স্থগিত, পিছিয়ে গেল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ মার্চের সফর স্থগিত, পিছিয়ে গেল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ

নির্বাচনী আচরণবিধি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বগুড়া সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; স্থগিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন।

আসন্ন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় তাঁর উপস্থিতিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ (Family Card) বিতরণের মধ্য দিয়ে একটি উচ্চাভিলাষী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাইলট প্রজেক্ট উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এই সফর ও কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

উপনির্বাচন ও আচরণবিধির বাধ্যবাধকতা বগুড়ার জেলা প্রশাসক (DC) তৌফিকুর রহমান সোমবার (২ মার্চ) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১০ মার্চের নির্ধারিত কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে, যেহেতু বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচন (By-election) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী কোনো সরকারি উন্নয়নমূলক বা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে চান না। মূলত নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

‘ফ্যামিলি কার্ড’: নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়নের পথে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন ছিল গত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইশতেহার (Manifesto)। ক্ষমতায় আসার পর সরকার দ্রুততম সময়ে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইলট প্রকল্পের (Pilot Project) অংশ হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। যোগ্য সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজও (Data Collection) শুরু হয়েছিল। কর্মসূচিটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) নেতৃত্বে পৃথক মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভাতা ও প্রকল্প রূপরেখা সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে। এই সুবিধার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পরিবারের নারীরা; অর্থাৎ প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে একজন করে নারী এই কার্ডের জন্য নিবন্ধিত (Registered) হবেন। একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে যতগুলো পরিবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে, তাদের প্রত্যেককেই এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

প্রাথমিকভাবে ৪ মাসব্যাপী ‘পাইলটিং’ (Piloting) কার্যক্রম চলবে। এই সময়ে প্রকল্পের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করা হবে। পরবর্তীতে এই অভিজ্ঞতার আলোকে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অপেক্ষায় বগুড়াবাসী বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ। নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্থগিত হওয়ার খবরে স্থানীয় সুফলভোগীদের মধ্যে কিছুটা অপেক্ষা তৈরি হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্বাচনের পরপরই নতুন উদ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প একটি গেম-চেঞ্জার (Game-changer) হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Tags: tarique rahman family card bogra visit