ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে টার্গেট (Target) করার এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে অস্থিতিশীল (Destabilization) করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বিদেশি শত্রুরা গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এমন গুরুতর অভিযোগ এনেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যাচেষ্টার মতো বিপজ্জনক পাঁয়তারা চলছে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ এবং টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা মন্ত্রীর সরাসরি সতর্কবার্তা
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এসমাইল খাতিব এই গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "শত্রু কখনও হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে, কখনো বৈরী হামলার (Hostile Attacks) মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতাকে টার্গেট করতে চায়।" যদিও মন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি, তবে ইরানি কর্মকর্তারা প্রায়শই বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। তবে খামেনির বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার হুমকি নিয়ে এমন উচ্চ-পর্যায়ের মন্তব্য বিরল।
খাতিব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বা সহায়তা করছে, তারা ‘জেনে বা না জেনে শত্রুর অনুপ্রবেশকারী এজেন্ট (Infiltrator Agent)’।" তাঁর এই বক্তব্য তেহরানের সন্দেহের তীর কোন দিকে, তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
জুনের যুদ্ধ এবং ‘খামেনিকে হত্যার গোপন পরিকল্পনা’
এই অভিযোগ আরও গুরুত্ব পাচ্ছে চলতি বছরের জুন মাসে ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে চলমান ১২ দিনের সংঘাতের প্রেক্ষিতে। ওই সংঘাতের সময় ইসরায়েল ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (Key Installations) লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও গুরুত্বপূর্ণ ইরানি পরমাণু স্থাপনা (Nuclear Facilities) লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছিল।
ওই সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। সেখানে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালীন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আসা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা ভেটো (Veto) দিয়েছিলেন। কারণ ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল, এমন পদক্ষেপ ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলতে পারত এবং আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত হত।
এই গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সে সময়ের ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি জবাব দেওয়া এড়িয়ে যান। তবে তিনি মন্তব্য করেন, এমন পদক্ষেপ (খামেনিকে হত্যা) ‘সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে’। নেতানিয়াহুর এই রহস্যময় মন্তব্য ইরানের বর্তমান অভিযোগকে আরও জোরদার করেছে।
ইরান এই অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে তার সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ওপর সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি (Security Risk) তুলে ধরল এবং একইসাথে এই দুই শত্রু রাষ্ট্র (Enemy States)-এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বিবৃতি (Political Statement) দিল।