• প্রযুক্তি
  • ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের তথ্য লুকিয়ে ফেলার অভিযোগ মেটার বিরুদ্ধে: মার্কিন আদালতে চাঞ্চল্য

ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের তথ্য লুকিয়ে ফেলার অভিযোগ মেটার বিরুদ্ধে: মার্কিন আদালতে চাঞ্চল্য

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের তথ্য লুকিয়ে ফেলার অভিযোগ মেটার বিরুদ্ধে: মার্কিন আদালতে চাঞ্চল্য

‘প্রজেক্ট মার্কারি’ গবেষণায় ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ পাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ ‘ডেটা’ সরিয়ে ফেলেছে ‘টেক-জায়ান্ট’, অভিযোগ মার্কিন ‘ল' ফার্মের।

অভ্যন্তরীণ গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য

মার্কিন আদালতে এবার তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়ল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেক-জায়ান্ট মেটা (Meta)। আইন সংস্থা মটলি রাইস (Motley Rice) আদালতের কাছে দাবি করেছে যে, মেটার অভ্যন্তরীণ এক গবেষণায় ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ পাওয়ার পরই সেই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ সকল তথ্য (Data) সরিয়ে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) মার্কিন স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা এক মামলায় এই বিস্ফোরক অভিযোগ করে সংস্থাটি। মটলি রাইসের অভিযোগ, মেটা নিজেদের ব্যবহারকারীদের ওপর করা এই জরিপ ও গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার (Business) ওপর একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছিল।

'প্রজেক্ট মার্কারি'-এর চাঞ্চল্যকর ফলাফল

মটলি রাইস তাদের অভিযোগে জানায়, ২০২০ সালে মেটা 'প্রজেক্ট মার্কারি' (Project Mercury) নামে একটি গবেষণা প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পে মেটার বিজ্ঞানীরা নিলসন (Nielsen) নামের একটি জরিপ সংস্থার সাথে মেটার বিভিন্ন নথি এবং ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং ডকুমেন্ট (Browsing Document) নিয়ে গভীর গবেষণা করেন। গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা এক সপ্তাহ ধরে তাদের অ্যাকাউন্ট 'ডিএকটিভ' (Deactivate) বা নিষ্ক্রিয় করে রাখেন, তাদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং একাকীত্ব-এর মতো মানসিক সমস্যা আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। অর্থাৎ, সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বন্ধ করলে ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়, এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে গবেষণায়।

নিলসেন-এর দুইজন কর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই গবেষণায় সোশাল মিডিয়ার বিরূপ প্রভাব নিয়ে নানা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, যা ব্যবহারকারীদের ওপর ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের স্পষ্ট ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ দেয়।

তথ্য গোপনের কৌশল: মেটার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

অভিযোগে সংস্থাটি আরও জানায় যে, এই চাঞ্চল্যকর গবেষণার ফলাফল পাওয়ার পর মেটা এই সংক্রান্ত আর কোনো কাজ অগ্রসর হতে দেয়নি। এমনকি, তারা নিজেদের কোম্পানিতে এই গবেষণার ফলাফলকে 'মিডিয়া ন্যারেটিভ' (Media Narrative) দ্বারা প্রভাবিত বলে ধামাচাপা দিতে চেয়েছে। অথচ, মেটার তৎকালীন গ্লোবাল পাবলিক পলিসির প্রধান (Global Public Policy Head) নিক ক্লেগকে মেটার কর্মীরাই নিশ্চিত করেছিলেন যে, এই গবেষণার ফলাফল সঠিক ও বৈধ। অভিযোগ অনুযায়ী, মেটা এই সংবেদনশীল তথ্য ও ডেটা উন্মুক্ত না করে নিজেদের কাছে লুকিয়ে রেখেছে এবং সেটিকে জনসমক্ষে আনতে দেয়নি।

অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ ও মেটার প্রতিক্রিয়া

তথ্য লুকানোর পাশাপাশি আইন সংস্থা মটলি রাইস আদালতে মেটা, টিকটক এবং গুগল-এর বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: ১৩ বছরের কম বয়সি শিশুদের নিজেদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নীরবে উৎসাহিত করা, শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়বস্তু (Child Sexual Abuse Material - CSEA) মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়া এবং স্কুলের সময়কালে কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সোশ্যাল মিডিয়া পণ্য ব্যবহারের প্রসারিত করার চেষ্টা করা।

অপরদিকে, শনিবার এক বিবৃতিতে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সকল অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, পদ্ধতিগত ত্রুটির (Methodological Flaws) কারণে গবেষণাটি বন্ধ করেছিল মেটা। তিনি আরও দাবি করেন, মেটা তার পণ্যগুলির সুরক্ষা উন্নত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারী উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। এই হাই-প্রোফাইল মামলাটি সোশাল মিডিয়া রেগুলেশন-এর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tags: social media instagram facebook meta mental health tech giant project mercury us court data concealment lawsuit