• দেশজুড়ে
  • পাবনায় রেজিস্টারদের প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে ৬ দলিল লেখকের সনদ বাতিল!

পাবনায় রেজিস্টারদের প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে ৬ দলিল লেখকের সনদ বাতিল!

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পাবনায় রেজিস্টারদের প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে ৬ দলিল লেখকের সনদ বাতিল!

সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে 'চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য' সৃষ্টির অভিযোগ: শ্রমিক লীগ নেতাসহ তালিকাভুক্ত ৬ জনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি

নানা অভিযোগে ৬ দলিল লেখকের সনদ বাতিল

পাবনা জেলা রেজিস্টার এবং সাব-রেজিস্টারদের অফিসে হামলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করা, প্রাণনাশের হুমকি (Death Threats), মামলা প্রত্যাহারের জন্য আল্টিমেটাম (Ultimatum) প্রদান এবং জোরপূর্বক চাঁদাবাজিসহ (Extortion) নানা গুরুতর অভিযোগে পাবনা জেলা রেজিস্টার অফিস কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সকল অভিযোগে পাবনা সদর সাব-রেজিস্টার অফিসের তালিকাভুক্ত ৬ জন দলিল লেখকের (Deed Writers) সনদ বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁদের সাব-রেজিস্টার অফিসের আঙিনায় প্রবেশেও স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) পাবনা জেলা রেজিস্টার দীপক কুমার সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রবিবার (২৩ নভেম্বর) দীপক কুমার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁদের সনদ বাতিল ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো

সনদ বাতিল হওয়া অভিযুক্ত দলিল লেখকরা হলেন:

পাবনা সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ইসহাক উল আলম।

সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম শাহীন।

আব্দুস সালাম।

মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

হাসান মাহমুদ পাপ্পু।

গোলজার হোসেন।

এই অভিযুক্তদের মধ্যে নুরুল আলম শাহীন নিজেকে শ্রমিক লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে পাবনা সদর সাব-রেজিস্টার অফিসে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার (Dominance) এবং মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগে বহুল আলোচিত।

জেলা রেজিস্টারের বক্তব্য ও অভিযোগের প্রমাণ

জেলা রেজিস্টার দীপক কুমার সরকার জানান, সাবেক সদর সাব-রেজিস্টার ইউসুফ আলী হত্যার হুমকি ও অশালীন আচরণসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়।

দীপক কুমার সরকার আরও জানান, "সম্প্রতি সেই অভিযোগসহ দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।" এছাড়াও একাধিক সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অফিসে হামলা, আতঙ্ক সৃষ্টি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঞ্ছিত, জোরপূর্বক চাঁদা আদায়সহ নানা অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রশাসনিক আদেশ (Administrative Order) জারি করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই ৬ জন ছাড়াও এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় 'চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য'

জানা গেছে, নুরুল আলম শাহীন এক সময় আওয়ামী লীগের সময় নিজেকে শ্রমিক লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে পাবনা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক প্রকার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় তিনি সেখানে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য (Extortion Racket) গড়ে তুলেছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী পরিচয় দিয়ে কিছু নেতার ছত্রছায়ায় সেই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন সেখানে সম্পাদিত প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ দলিলের প্রতিটির জন্য ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হতো। এই হিসেবে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং মাসে কয়েক কোটি টাকার চাঁদা উত্তোলন করে তা ভাগবাঁটোয়ারা করা হতো।

অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জানতে নুরুল আলম শাহীনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাবনা সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ইসহাক উল আলম জানান, "আমরা শুধু চিঠি পেলাম যে আমাদের সনদ বাতিল করা হয়েছে কিন্তু কেন করা হয়েছে আমরা জানি না। আমাদের এর আগে কোনো নোটিশও দেয়নি। আমরা অফিস সুন্দরভাবে চালাই, কোনো ধরনের ঝামেলা করি না। এখন মিথ্যা মামলা দিলে আমাদের কী বলার আছে?"

Tags: pabna sadar dalil lekhok sanad batil sub registrar nurul alam shahin extortion racket death threats pabna district registrar office attack