• দেশজুড়ে
  • ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে সড়কে লবণ ফেললেন কুতুবদিয়ার চাষিরা, উত্তাল উপকূল

ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে সড়কে লবণ ফেললেন কুতুবদিয়ার চাষিরা, উত্তাল উপকূল

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে সড়কে লবণ ফেললেন কুতুবদিয়ার চাষিরা, উত্তাল উপকূল

মণ প্রতি ৩০০ টাকা উৎপাদন খরচ, কিন্তু মিলছে মাত্র ১২০-১৪০ টাকা। লবণ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি প্রান্তিক চাষিরা, বাড়ছে আমদানির চক্রান্তের শঙ্কা।

কক্সবাজার উপকূল: চরম লোকসানে লবণ চাষ, কাফনের কাপড়ে প্রতিবাদ

চরম লোকসান, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং মিল মালিকদের সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূল। বাধ্য হয়ে কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমে এসেছেন প্রান্তিক লবণ চাষিরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুতুবদিয়ার লবণ মাঠে আয়োজিত এই অভিনব মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাষিরা সড়কের উপর লবণ ফেলেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

৩৫০ টাকা প্রোডাকশন কস্ট, বিক্রি মাত্র ১২০ টাকায়

'প্রান্তিক লবণ চাষি সমিতি, কুতুবদিয়া'-এর ব্যানারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে চাষিরা জানান, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতি মণ লবণের জন্য তাঁরা মূল্য পাচ্ছেন মাত্র ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। অথচ লবণ উৎপাদন করতে গিয়ে তাঁদের খরচ পড়ছে কমপক্ষে ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মণ লবণে তাঁদের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা।

এই লাগাতার লোকসানের জেরে প্রান্তিক চাষিরা কার্যত পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অনেকেই লবণ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা দেশের লবণ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী সঙ্কট তৈরি করতে পারে বলে তাঁদের শঙ্কা।

চাষি পাচ্ছে ৩ টাকা, বাজার দর ৪৫ টাকা: সিন্ডিকেটের ভূমিকা

লবণের মূল্য বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে চাষিরা অভিযোগ করেন যে, মাঠ পর্যায়ে তাঁরা প্রতি কেজি লবণের দাম পাচ্ছেন মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা। সেই একই লবণ যখন পরিশোধনের পর বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তখন ক্রেতাকে প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৪৫ টাকায়।

মাঠের দাম এবং খুচরা বাজারের দামের এই বিশাল ফারাককেই প্রধানত মিল মালিকদের শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ দায়ী বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। তাঁদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে চাষিদের তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে লবণের ‘ফেয়ার প্রাইস’ (Fair Price) নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

ভোজ্য লবণ আমদানির চক্রান্ত ও সারের মূল্যবৃদ্ধি

মানববন্ধন থেকে লবণ চাষিরা আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রথমত, দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শিল্প লবণের (Industrial Salt) নামে গোপনে ভোজ্য লবণ (Edible Salt) আমদানির চক্রান্ত করছে। চাষিদের মতে, এই আমদানির ফলে দেশীয় লবণের দাম আরও কমে যাবে এবং চাষিরা সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে যাবেন। তাঁরা অবিলম্বে লবণ আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি জানান।

দ্বিতীয়ত, লবণ উৎপাদনে অপরিহার্য উপকরণ সার বা অন্যান্য রাসায়নিক অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। এতে উৎপাদন খরচ আরও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা লোকসানের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

উক্ত মানববন্ধনে লেমশিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোছাইন, প্যানেল চেয়ারম্যান নাজেম উদ্দিন নাজু, ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনসহ লবণ ব্যবসায়ী শফিউল আলম বাবুল, মো. সেলিম, মো. সাহেদ, মোহাম্মদ উল্লাহ এবং জাকের উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তাঁরা সরকারের কাছে দ্রুত এই শিল্পের সুরক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Tags: bangladesh protest salt farmers cox bazar kutubdia salt price farmers syndicate import ban low price kaafner kapor