বলিউডে শোকের ছায়া: প্রয়াত কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র, শোকে ভাসছে ইন্ডাস্ট্রি
হিন্দি চলচ্চিত্রের 'হি-ম্যান' (He-Man) খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওল আর নেই। টানা কয়েক সপ্তাহ রোগব্যাধির সঙ্গে লড়াইয়ের পর সোমবার (২৪ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মাত্র দুই সপ্তাহ পরই তাঁর ৯০তম জন্মদিনে পদার্পণ করার কথা ছিল। আকস্মিক এই প্রয়াণে বলিউডে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ধর্মেন্দ্র শুধু দর্শকদেরই নন, তাঁর ব্যক্তিগত উষ্ণতা, উদারতা এবং মানবিকতার জন্য সহশিল্পী, অনুজ থেকে সমগ্র চলচ্চিত্র জগতের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তাই তাঁর মৃত্যু সংবাদে শোকাহত পুরো ইন্ডাস্ট্রি।
'বাবাজি'র প্রয়াণে সহকর্মীদের আবেগঘন শ্রদ্ধা
কিংবদন্তি এই অভিনেতাকে স্মরণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সায়রা বানু, প্রয়াত অভিনেতা দিলীপ কুমারের স্ত্রী, এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, "তাঁর মৃত্যু মেনে নেওয়া অসম্ভব। দিলীপ সাহেব তাঁকে নিজের ছোট ভাই মনে করতেন। এতটাই কষ্ট পেয়েছি যে কথা বলার শক্তি পাচ্ছি না।"
'চুপকে চুপকে' (Chupke Chupke) চলচ্চিত্রের সহশিল্পী শর্মিলা ঠাকুর জানান, "তিনি ছিলেন অসাধারণ মানুষ। সবার বাবাজি। সবার খোঁজ রাখতেন। ভেবেছিলাম, এবারও অসুস্থতা জয় করে ফিরবেন।" তাঁর সঙ্গে শুটিংয়ের স্মৃতি তাঁকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান শর্মিলা ঠাকুর।
পরিচালক-প্রযোজক করন জোহর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, "একটি যুগের অবসান। তিনি শুধু কিংবদন্তিই নন, ছিলেন একজন সেরা মানুষ।" অভিনেতা অজয় দেবগন ইনস্টাগ্রামে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "তাঁর উষ্ণতা, উদারতা ও উপস্থিতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে। ইন্ডাস্ট্রি একজন কিংবদন্তিকে হারাল।"
অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা তাঁর অসুস্থতার মাঝেও ধর্মেন্দ্রর উজ্জ্বল থাকার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম তিনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন। ভাবতেই চাই না, প্রিয় মানুষগুলো একদিন চলে যাবে।"
কৃষক পরিবার থেকে 'শোলে'র 'বীরু': এক বর্ণময় কেরিয়ার
১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের নাসরালিতে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ধর্মেন্দ্র। শৈশব থেকেই সিনেমার প্রতি ছিল তাঁর অদম্য টান। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার 'ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা' (Talent Contest) জিতে বলিউডে পথচলা শুরু হয়। একই বছর 'দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে' ছবিতে তাঁর অভিষেক ঘটে।
পরবর্তী ছয় দশকে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। রোমান্স (Romance), অ্যাকশন (Action) ও কমেডি (Comedy)—এই তিন ধারায়ই তিনি সমান সফল ছিলেন।
রোমান্টিক হিরো: ষাটের দশকে 'ফুল অউর পাথর', 'অনুপমা', 'আয়ে দিন বাহার কে' ছবিতে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা পান।
অ্যাকশন হিরো: এরপর 'ধর্ম বীর', 'হুকুমত'-এ অ্যাকশন হিরো (Action Hero) রূপে তিনি পর্দায় ঝড় তোলেন।
কমেডি কিং: পাশাপাশি 'চুপকে চুপকে'-এর মতো কালজয়ী ছবিতে প্রমাণ করেন, কমেডিতেও তিনি সমান দক্ষ।
তবে তাঁর 'ক্যারিয়ারের' (Career) মোড় ঘুরিয়ে দেয় রমেশ সিপ্পির নির্মিত কালজয়ী ছবি 'শোলে' (Sholay)। জয় (অমিতাভ বচ্চন)-বীরুর বন্ধুত্ব আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের এক স্মরণীয় উপজীব্য।
অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং মানবিকতার জন্য ২০১২ সালে তিনি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান 'পদ্মভূষণ' (Padma Bhushan) লাভ করেন।