যশোর সার্কিট হাউস থেকে নিজেকে ‘অতিরিক্ত সচিব’ (Additional Secretary) পরিচয় দিয়ে ভিআইপি সুবিধা গ্রহণের চেষ্টাকালে মো. আব্দুস সালাম (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর, ২০২৫) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। সার্কিট হাউস কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ে তিনি প্রতারক (Fraudster) হিসেবে চিহ্নিত হন এবং তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আটক আব্দুস সালামের বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চি গ্রামে। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময় নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি গাড়ি পাঠিয়ে ভিআইপি অভ্যর্থনা
সার্কিট হাউস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে আব্দুস সালাম সার্কিট হাউসের মোবাইল নম্বরে কল করে নিজেকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, তিনি ঢাকা থেকে যশোরে আসছেন এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি যশোর রেল স্টেশনে (Rail Station) সরকারি গাড়ি পাঠানোরও নির্দেশ দেন।
আব্দুস সালামের নির্দেশনা অনুযায়ী, সার্কিট হাউস কর্তৃপক্ষ সরকারি গাড়ি পাঠিয়ে তাকে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসেন। তার এই নিখুঁত চালের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে কেউ তাকে সন্দেহ করেননি।
যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়ল প্রতারণা
সার্কিট হাউসে আসার কিছুক্ষণ পরই কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে আটক ব্যক্তির পরিচয় যাচাই (Verification) করা শুরু করেন। যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আব্দুস সালামের দেওয়া অতিরিক্ত সচিবের পরিচয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর সার্কিট হাউস কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা পরিষদের (Zila Parishad) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও/CEO) এস.এম শাহীনসহ কর্মকর্তারাও পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর সার্কিট হাউস কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় খবর দেয়। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি/OC) আবুল হাসনাত জানান, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে (Custody) নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা (Legal Action) গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
সূত্র মতে, আটক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে ভিআইপি সুবিধা (VIP Facility) গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার ঢাকা সচিবালয়েও (Secretariat) অবাধ বিচরণ ছিল বলে জানা যায়।