বিশ্বজুড়ে ভূ-প্রকৃতির অস্থিরতা যেন কাটছেই না। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভারত সংলগ্ন অঞ্চল এবং ইন্দোনেশিয়ায় একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরে পরপর কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটান এবং দেশের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে আঘাত হানা এই কম্পনগুলোর কারণে উপকূলীয় ও পার্বত্য এলাকাগুলোতে মৃদু দুলুনি অনুভূত হয়। একই সময়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ইন্দোনেশিয়ায়ও।
ভুটান ও বঙ্গোপসাগরে ‘Seismic Activity’
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) এবং আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বুধবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ও বৃহস্পতিবার ভোরে এই কম্পনগুলো রেকর্ড করা হয়। ভারতের নিকটবর্তী রাষ্ট্র ভুটানে বুধবার রাত ১১টা ৩২ মিনিটে ৩.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। যদিও এর মাত্রা ছিল মৃদু, তবুও রাতের নিস্তব্ধতায় এটি স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ভোররাত ২টা ৫৯ মিনিটে কেঁপে ওঠে বঙ্গোপসাগর। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.০। এর ‘Epicenter’ বা উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রের তলদেশে, যার গভীরতা পরিমাপ করা হয়েছে ১০ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই কম্পন ভারতের উপকূলীয় কিছু অংশে অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইন্দোনেশিয়ায় ঘনঘন কম্পন ও সতর্কতা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়াতেও প্রায় একই সময়ে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টায় দেশটির নর্থ সুলাওয়েসি (North Sulawesi) অঞ্চলে ৪.৫ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ইউএসজিএস-এর তথ্যানুযায়ী, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নর্থ সুলাওয়েসির তন্দানোর ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং এর গভীরতা ছিল ১২০.৯ কিলোমিটার। গভীরতা বেশি হওয়ায় উপরিভাগে এর তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো প্রাণহানি বা বড় অবকাঠামগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত রবিবার (২৩ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা অঞ্চলে ৫.২ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই অঞ্চলে বারবার কম্পন ভূ-তাত্ত্বিকদের ভাবিয়ে তুলছে।
‘Ring of Fire’ ও জিওলজিক্যাল ঝুঁকি
ভূ-তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়া ও এর আশেপাশের অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘Ring of Fire’ বা আগ্নেয় মেখলা বরাবর দেশটির অবস্থান হওয়ায় এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এই অঞ্চলে একাধিক ‘Tectonic Plate’ মিলিত হয়েছে, যার ফলে মাটির গভীরে ঘর্ষণ ও চাপ সৃষ্টির কারণে ঘনঘন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের প্লেটগুলোর নড়াচড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট-বড় ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে। যদিও বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ঘটনাগুলোতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।