দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে জনপরিসরে নারীদের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা হয়রানি, কটাক্ষ ও Cyberbullying-এর বিরুদ্ধে সরব হলেন বলিউডের আইকন (Bollywood Icon) এবং সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এক গভীর এবং অত্যন্ত দৃঢ় বার্তায় তারকাখ্যাত এই অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নারীর পোশাক, সাজসজ্জা কিংবা আচরণ কখনোই কোনো ধরনের হেনস্তা বা কটূক্তির ন্যায্যতা দিতে পারে না। তাঁর এই শক্তিশালী অবস্থান মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে Viral হয়ে উঠেছে এবং নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
'হেনস্তাকারীর চোখের দিকে সোজাসুজি তাকাতে শিখুন'
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক প্রসাধনী দ্রব্যের বিজ্ঞাপনী দূত হিসেবে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়—রাস্তাঘাটে নারীরা কীভাবে হয়রানি বা Eve Teasing মোকাবিলা করবেন? এই প্রশ্নের জবাবে ঐশ্বরিয়া তাৎক্ষণিক এবং আত্মবিশ্বাসী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
তিনি বলেন, "অপর প্রান্তের মানুষটির চোখের দিকে না তাকালেই পার পেয়ে যাবেন ভাবছেন? তাহলে বলি, একদম নয়। মোকাবিলা করতে হেনস্তাকারীর চোখের দিকে সোজাসুজি তাকাতে শিখুন। মাথা উঁচু করে হাঁটুন।" তাঁর এই বক্তব্য Women Empowerment-এর ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আত্মবিশ্বাসে জোর: 'আমার শরীর, আমার সম্পদ'
নারী হয়রানি (Women Harassment) মোকাবিলায় ঐশ্বরিয়া রাই আত্মবিশ্বাসের ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছেন। তিনি নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারীদের ভাবতে শেখা উচিত—"আমার শরীর, আমার সম্পদ (My body, my asset)।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নারীর Bodily Autonomy-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন।
তিনি আরও বলেন, নারীরা যেন নিজেদের মূল্য নিয়ে কখনোই আপস না করেন বা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে না ভোগেন। অভিনেত্রী নারীদের পরামর্শ দিয়েছেন—"আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন এবং প্রয়োজনে নিজের জন্য নিজে উঠে দাঁড়ান ও লড়ুন।" একজন Global Icon-এর কাছ থেকে আসা এই বার্তা কোটি কোটি নারীকে সাহস জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঐশ্বরিয়ার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ভারতের Digital Space-এও নারীদের প্রতি Trolling এবং হয়রানি বেড়ে চলেছে। তাঁর এই Statement প্রমাণ করে যে, সমাজে পরিবর্তন আনতে একজন তারকার Social Responsibility কতটা গুরুত্বপূর্ণ।