• বিনোদন
  • আলভীর স্ত্রীর করুণ মৃত্যু: দেশে ফিরেই ‘পরকীয়ার’ গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন অভিনেত্রী তিথি

আলভীর স্ত্রীর করুণ মৃত্যু: দেশে ফিরেই ‘পরকীয়ার’ গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন অভিনেত্রী তিথি

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
আলভীর স্ত্রীর করুণ মৃত্যু: দেশে ফিরেই ‘পরকীয়ার’ গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন অভিনেত্রী তিথি

ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় বিদ্ধ আলভী ও তিথি; নেপাল সফর থেকে ফিরে মুখ খুললেন অভিনেত্রী, জানালেন আলভী শুধুই তাঁর ‘সেরা বন্ধু’।

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনায় টালমাটাল বিনোদন অঙ্গন। এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যতম আসামী অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি অবশেষে দেশে ফিরেছেন। নেপাল সফর থেকে ফিরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। আলভীর সঙ্গে তাঁর তথাকথিত ‘সম্পর্ক’ এবং ইকরার মৃত্যু নিয়ে ওঠা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী।

নেপাল সফর ও ফেরার বিলম্ব নিয়ে স্পষ্টীকরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে রটেছিল যে, ইকরার মৃত্যুর খবর জানলেও আলভী ও তিথি নেপালে ছুটি কাটাচ্ছেন। এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে তিথি বলেন, "অনেকেই বলছেন আলভী তাঁর স্ত্রীকে শেষ দেখা দেখতে আসেননি এবং তাঁর গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে নেপালে ঘুমিয়ে আছেন—এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল কথা। আমি পুরো শ্যুটিং টিমের সঙ্গে গতকাল (২ মার্চ) দেশে ফিরেছি।"

ফিরতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ইকরার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। তিথির ভাষ্যমতে, "যেদিন ইকরা আত্মহত্যা করেন, সেদিনই একটি এয়ার টিকিট (Air Ticket) ম্যানেজ করার জন্য আমরা অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেছি। কিন্তু প্রথম দিন কোনো টিকিট পাওয়া যায়নি। পরের দিন অনেক কষ্টে টিকিটের ব্যবস্থা করে পুরো টিমের সঙ্গে আমরা দেশে ফিরেছি।"

আলভীর সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন: প্রেম না বন্ধুত্ব? শোবিজ (Showbiz) পাড়ায় দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ছিল যে, জাহের আলভীর সঙ্গে তিথির এক ধরণের Extra-marital affair বা পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীরা দাবি করেছিলেন, আলভী ও তিথির এই ঘনিষ্ঠতাই ইকরাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল এবং তাঁকে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।

তবে প্রেমের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিথি জানান, আলভী তাঁর পেশাগত জীবনের দীর্ঘদিনের সহকর্মী। তিনি বলেন, "আলভীর সঙ্গে আমি চার-পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি। কোনো অফিসে যখন আপনার সহকর্মী (Colleague) থাকে, তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করলে একটি গভীর বন্ধুত্ব হওয়া স্বাভাবিক। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি—ইন্ডাস্ট্রিতে আলভী আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।"

নেপথ্যের ট্র্যাজেডি ও আইনি মারপ্যাঁচ ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার)। মিরপুর ডিওএইচএস-এর একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদি ইকরার বাবা আসামী হিসেবে জাহের আলভী, তাঁর মা এবং অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির নাম উল্লেখ করেছেন।

ইকরার পরিবারের অভিযোগ, আলভীর উদাসীনতা এবং তিথির সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্কই এই অকাল মৃত্যুর মূল কারণ। ইতিমধ্যে ইকরার ফেসবুক আইডি ও চ্যাটিং হিস্ট্রি (Chat History) মুছে ফেলার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, মামলার তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং আদালতের রায়ে এই বিতর্কের অবসান কীভাবে ঘটে। আপাতত তিথির দেশে ফেরা এবং তাঁর এই জবানবন্দি শোবিজ পাড়ায় আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।