দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার রায়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আয়েশা আক্তার মৌসুমীর আদালত এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই দিন ধার্য করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও আত্মপক্ষ সমর্থন মামলার চূড়ান্ত শুনানির দিনে সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহিনুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (Investigation Officer) সিআইডি-র এসআই জামাল উদ্দিন আদালতে তাঁদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে নয়জন সাক্ষীর তালিকা থাকলেও আদালত এ পর্যন্ত তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসিফ আকবর আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতের সামনে উপস্থিত হয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রায়ের জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ঘটনার নেপথ্য ও আইনি জটিলতা মামলার নথি অনুযায়ী, এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় ২০১৮ সালের ৫ জুন রাতে। তৎকালীন সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (ICT Act) একটি মামলায় আসিফ আকবরকে তাঁর মগবাজারের অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চলাকালীন তাঁর অফিস কক্ষে চার বোতল বিদেশি মদ পাওয়া যায় বলে সিআইডি দাবি করে।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত তরল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে (Department of Narcotics Control) পাঠানো হয়। লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজ দখলে রাখার অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই তেজগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আসিফের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সিআইডি পুলিশের এসআই প্রশান্ত কুমার সিকদার।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা মামলাটি দায়েরের প্রায় এক বছর পর ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আসিফের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (Charge Sheet) জমা দেয় সিআইডি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার নানা জটিলতায় বিচার কাজ শুরু হতে বেশ দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অভিযোগপত্র দাখিলের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউটর মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার গণমাধ্যমকে বলেন, "গত বছরের ২০ মার্চ মামলাটি বিচারের জন্য আমাদের আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আমরা গুরুত্বপূর্ণ তিনজনের সাক্ষ্য সফলভাবে গ্রহণ করেছি। আমাদের বিশ্বাস, প্রসিকিউশন পক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।"
সংগীত অঙ্গনে ও সামাজিক মাধ্যমে এই রায় নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা গানের এই জনপ্রিয় তারকার ভবিষ্যৎ এখন আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।