ছোট পর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় টালমাটাল বিনোদন অঙ্গন। একদিকে শোকের ছায়া, অন্যদিকে ইকরার মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে রহস্যজনক সব পরিবর্তন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গত রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হলেও, নেপথ্যের কাহিনী নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এবার ইকরার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি উধাও হওয়া এবং চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠায় ঘটনার মোড় অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট গায়েব: নেপথ্যে কে?
সোমবার (২ মার্চ) জানা যায়, ইকরার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিটি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় বা উধাও হয়ে গেছে। ইকরার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সামিয়া আলমের দাবি, আইডিটি সুপরিকল্পিতভাবে হ্যাক করা হয়েছে। সামিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি লক্ষ্য করেন ইকরার প্রোফাইলটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, তাদের বন্ধুদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপ থেকেও ইকরার করা পূর্ববর্তী সব মেসেজ ও কথোপকথন মুছে ফেলা হয়েছে।
সামিয়ার অভিযোগের আঙুল সরাসরি অভিনেতা জাহের আলভীর দিকে। তিনি দাবি করেন, ইকরার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট মুছে দেওয়ার এই কাজটি আলভীই করেছেন, যাতে সম্ভাব্য কোনো তথ্যপ্রমাণ বা চ্যাটিং আলামত হিসেবে পুলিশের হাতে না পৌঁছায়।
পুলিশের হেফাজতে মোবাইল, তবুও কেন এই পরিবর্তন?
ইকরার মৃত্যুর পরপরই পল্লবী থানার পুলিশ তার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি ডিজিটাল আলামত (Evidence) হিসেবে জব্দ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে একটি প্রোফাইল হ্যাক হয় বা চ্যাটিং মুছে ফেলা হয়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইকরার অ্যাকাউন্টের লগ-ইন তথ্য অন্য কারো কাছে থাকে, তবে অন্য কোনো ডিভাইস থেকেও এই কাজটি করা সম্ভব। আর এখানেই আলভীর দিকে সন্দেহের তীর আরও জোরালো হচ্ছে।
আলভীর রহস্যময় ফেরা ও নীরবতা
ইকরার মৃত্যুর সময় অভিনেতা জাহের আলভী নেপালে অবস্থান করছিলেন। ১ মার্চ বিকেলে তিনি নেপাল থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। নেপালে থাকাকালীন তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, দেশে ফিরেই তিনি সব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
তবে বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একজন মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় বেরিয়ে যান এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে অস্বীকৃতি জানান। তার এই ‘পলায়নপর’ মনোভাব এবং রহস্যময় নীরবতা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আইনি প্যাঁচে আলভী ও পরিবার
ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় প্ররোচনার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে অভিনেত্রী তিথি এবং আলভীর মাকেও। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
শোবিজ অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইকরার ফেসবুক আইডি থেকে তথ্য মুছে ফেলার বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। কারণ, আত্মহত্যার আগে কোনো মানসিক চাপ বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার ইকরা হয়েছিলেন কি না, তার বড় প্রমাণ হতে পারত এই ফেসবুক চ্যাটিং।