বলিউডে নতুন এক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর। বাবা শক্তি কাপুরের ছায়াঘেরা পারিবারিক নীড় ছেড়ে মুম্বাইয়ের অন্যতম অভিজাত এলাকা জুহুতে একাই থাকতে শুরু করেছেন তিনি। তবে নিজের আলিশান বাড়ি থাকতে কেন তিনি ভাড়া বাড়িতে উঠলেন, তা নিয়ে বলিপাড়ার অলিগলি থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই চলছে জোর গুঞ্জন।
আরব সাগরের তীরে আকাশছোঁয়া বিলাসিতা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রদ্ধা কাপুর যে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছেন, তার আয়তন ৩,৯২৯ বর্গফুট। সমুদ্রমুখী এই Sea-facing ফ্ল্যাট থেকে দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশি আর খোলা আকাশ। এই রাজকীয় আবাসে থাকার জন্য শ্রদ্ধাকে প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে নগদ ৬ লাখ রুপি। সেই হিসেবে এক বছরের জন্য তার ভাড়ার খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৭২ লাখ রুপি। নীল সাগরের হাওয়া আর তারকাখচিত পাড়া—সব মিলিয়ে যেন এক নিখুঁত Cinematic Setup।
জুহুর ‘ভিআইপি জোন’ এবং তারকার প্রতিবেশী মুম্বাইয়ের জুহু এলাকা মানেই বলিউডের পাওয়ার সেন্টার বা VIP Zone। এই এলাকায় বসবাস করেন অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন, বরুণ ধাওয়ান এবং হৃতিক রোশনের মতো মহাতারকারা। এর আগে রণবীর সিং এবং দীপিকা পাড়ুকোনও নিজেদের ফ্ল্যাট ছেড়ে এই এলাকায় ভাড়ায় থেকেছেন। এমনকি অভিনেতা ইমরান খানও মাসে ৯ লাখ রুপি ভাড়া দিয়ে জুহুতে বসবাস করেছেন। বলিউডের ডাকসাইটে সব প্রোডাকশন হাউজ এবং হেভিওয়েট প্রযোজকদের বাস এই এলাকাতেই। নেটিজেনদের ধারণা, পেশাগত কারণে এই ‘পাওয়ার ক্লাব’-এর কাছাকাছি থাকতেই শ্রদ্ধার এই নতুন ঠিকানা বেছে নেওয়া।
কেন এই হুটহাট ঠিকানা বদল? ক্যারিয়ারের নতুন সমীকরণ? ঠিকানা বদলের কারণ নিয়ে শ্রদ্ধা কাপুর নিজে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পুরোপুরি ‘নিজের মতো করে সময় কাটানোর’ ইচ্ছা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কাজে তার পরিবার থেকেও কোনো আপত্তি আসেনি।
তবে এর পেছনে আরও একটি গভীর কারণ খুঁজছেন সিনেমা বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালে ‘স্ত্রী ২’ (Stree 2) সিনেমার আকাশচুম্বী সাফল্যের পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো প্রজেক্টের ঘোষণা দেননি শ্রদ্ধা। বড় বড় প্রযোজনা সংস্থা বা ‘বিগ ব্যানার’ মুভিগুলোর কাছাকাছি থাকতে এবং ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ ডিলগুলো সহজে সম্পন্ন করতে জুহুর মতো স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানে থাকা জরুরি। অনেকেই মনে করছেন, ক্যারিয়ারের নতুন এবং আরও বড় কোনো অধ্যায়ের প্রস্তুতির লক্ষ্যেই শ্রদ্ধার এই মুভমেন্ট।
বিলাসিতা নাকি পেশাগত রণকৌশল? বলিউড তারকাদের জন্য বাড়ি বদলানো কেবল থাকার বিষয় নয়, এটি অনেক সময় তাদের Market Value এবং মর্যাদারও প্রতীক। শ্রদ্ধা কাপুরের এই নতুন ডেরা কেবল তার আভিজাত্যের পরিচয় দিচ্ছে না, বরং ইন্ডাস্ট্রিতে তার অবস্থানকে আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নীল সাগরের তীরে এই ৩,৯২৯ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে থেকে তিনি নতুন কোনো বড় খবরের ঘোষণা দেন কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা।