ভারতের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি নতুন নাম। আগামী জুন মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি দিয়ে সাদা পোশাকের অভিজাত ক্রিকেটে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে ‘নয়া চন্ডিগড়’ স্টেডিয়াম। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) সোমবার এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করার পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
৩১তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে রেকর্ড ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বোর্ড বিসিসিআই তাদের ভেন্যু বৈচিত্র্যের জন্য সুপরিচিত। ভারতে এ পর্যন্ত ৩০টি ভিন্ন ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৬ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ভারত-আফগানিস্তান টেস্টের মাধ্যমে ৩১তম Test Venue হিসেবে তালিকায় নাম লেখাবে নয়া চন্ডিগড়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্টেডিয়ামটি ইতোমধ্যে আইপিএল (IPL) এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে দীর্ঘ ফরম্যাটে এই মাঠের পিচ এবং কন্ডিশন কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে এখন থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আফগানিস্তানের প্রত্যাবর্তন ও অতীত স্মৃতি আফগানিস্তান তাদের টেস্ট ক্রিকেটের পথচলা শুরু করেছিল ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষেই। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক টেস্টে ইনিংস ও ২৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। ২০১৭ সালে আইসিসি থেকে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এটি ছিল রশিদ-নবীদের প্রথম বড় অগ্নিপরীক্ষা। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে আবারও ভারতের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে নামছে আফগানরা। যদিও এই সময়ে তারা বেশ পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত খেলা ১২টি টেস্টের মধ্যে আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়সহ ৪টিতে জিতেছে তারা, যা একটি নবীন টেস্ট খেলুড়ে দেশের জন্য বেশ ইতিবাচক রেকর্ড।
সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও সময়সূচি বিসিসিআই-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ জুন নয়া চন্ডিগড়ে শুরু হবে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। এরপর দুদলের লড়াই গড়াবে সাদা বলের ক্রিকেটে। ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচই ডে-নাইট ফরমেটে অনুষ্ঠিত হবে।
একমাত্র টেস্ট: ৬ জুন (নয়া চন্ডিগড়), স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট।
প্রথম ওয়ানডে: ১৪ জুন (ধর্মশালা), দুপুর ১টা ৩০ মিনিট।
দ্বিতীয় ওয়ানডে: ১৭ জুন (লখনৌ), দুপুর ১টা ৩০ মিনিট।
তৃতীয় ওয়ানডে: ২০ জুন (চেন্নাই), দুপুর ১টা ৩০ মিনিট।
রণকৌশল ও প্রস্তুতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পরবর্তী সময়ে এই সিরিজটি ভারতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধর্মশালা ও চেন্নাইয়ের মতো ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে ওয়ানডে ম্যাচগুলো ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স যাচাইয়ের বড় সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে, স্পিন-নির্ভর আফগানিস্তান দল ভারতের স্পিন-সহায়ক উইকেটে স্বাগতিকদের কতটা বিপাকে ফেলতে পারে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব। বিসিসিআই জানিয়েছে, একটি সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আয়োজনে তারা সব ধরনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।